নিজস্ব প্রতিনিধি ,কুমারঘাট :
এক পশলা বৃষ্টিতেই জলমগ্ন রাস্তা, ঘরে ঢুকছে নর্দমার নোংরা জল। পৌর পরিষদ এলাকার এমন দুর্দশায় চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।
ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট পৌর পরিষদের সারদাপল্লী এলাকায় দীর্ঘদিনের জল দূর্ভোগ ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।
না, কোন গ্রাম বা প্রত্যন্ত এলাকার ছবি নয় এটি। বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার পৌর পরিষদ এলাকার একটি রাস্তার এমনই দশা বিগত কয়েক বছর ধরে।
ঊনকোটি জেলার পাবিয়াছড়া বিধানসভাধীন কুমারঘাট পৌর পরিষদের সারদাপল্লী এলাকার দৃশ্য এটি।
এক পশলা বৃষ্টিতেই তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে যেন ভেষে যাচ্ছে সারদাপল্লী এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। ভগবানের কু-দৃষ্টিতে
দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথ চলতি সাধারণ মানুষ থেকে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরকে।
ডবল ইঞ্জিনের শাসনে ত্রিপুরার সর্বত্রই চলছে কেবল উন্নয়ন আর উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নের চোড়া স্রোতই যেন ভেষেগেলো কুমারঘাটের সারদাপল্লী এলাকার রাস্তাঘাট থেকে মানুষের বাড়ীঘর।
একসময় এলাকার মানুষ করজোড়ে প্রকৃত উন্নয়ন চেয়েছিলেন ভগবানের কাছে।
ডবল ইঞ্জিনের দীর্ঘ আট বছরের শাসনে উন্নয়নের এমন স্রোত দেখে আজ কার্যত যেন মুখ ফিরিয়েছেন ভগবানও।
এমনিতেই খানাখন্দে ভরা রাস্তা। তার উপর এক পশলা বৃষ্টিতেই জলে থৈ-থৈ অবস্থা সারদাপল্লী এলাকার। বৃষ্টি নামলে সারদাপল্লী যেন কার্যত রূপ নেয় সাগর পল্লীতে।
আর সেই সাগরে হাঁটু জল ভেঙে স্কুল-কলেজে যেতে হয় ছাত্রছাত্রী থেকে পথ চলতি সাধারণ মানুষকে। জল ঢুকে যায় মানুষের বাড়ির উঠোন থেকে ঘর পর্যন্ত।
ডবল ইঞ্জিনের শাসনে ত্রিপুরার সর্বত্রই শুধু চলছে বিকাশ আর বিকাশ। আর সেই বিকাশের স্রোতেই যেন একেবারে ভেসে যাচ্ছে কুমারঘাটের উন্নয়ন।
এবিষয়ে এলাকার বাসিন্দা সম্পা দাস বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সমস্যায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদেরকে। বাড়ি ঘরে ঢুকে যায় রাস্তার জল। এতে ঘর থেকে বের হতে পারেননা তারা।
নর্দমার জল সরাসরি বয়ে যায় রাস্তা এবং বাড়িঘরের উপর দিয়ে। এবিষয়ে অনেক আগেই স্থানীয় ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন তারা।
তাদের অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের বদলে মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতির বন্যা। এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিগত দিনে ঘর থেকেও তারা বের হতে পারেননি বলে জানালেন ঐ মহিলা।
এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা কেশব দেব বলেন, এলাকায় নর্দমার ভালো ব্যবস্থা না থাকাতে বৃষ্টি হলেই কুমারঘাট রেল স্টেশনের সমস্ত জল গড়িয়ে যায় সারদাপল্লীর উপর দিয়ে। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসছে তাদের এই সমস্যা। নর্দমা সাফাই করা হলেও তা পরিষ্কার হয়না সঠিক মতো।
জল দুর্ভোগ কাটাতে এলাকায় উপযুক্ত নর্দমা ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। কৃত্রিম বন্যার জেরে এলাকার মানুষের বাড়ি ঘরেও ঢুকে পড়ছে জল। এনিয়ে এলাকার বাসিন্দা সুবোধ রুদ্রপাল বলেন, জল দূর্ভোগে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা।
কৃত্রিম বন্যার জেরে রাস্তার জল প্রবেশ করছে তাদের ঘরে। এলাকায় পর্যাপ্ত নর্দমার না থাকার ফলে সৃষ্টি হয়েছে এই সমস্যার। তিনি বলেন নর্দমার জন্য জায়গা ছেড়েছেন তারা।
এনিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারদের জানালেও মিলেছে শুধু ড্রেন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি। বাস্তবে সাত বছরেও এলাকায় উন্নত হয়নি নর্দমা ব্যবস্থা। এলাকায় একটি ড্রেন থাকলেও তার গভীরতা কমে যাওয়ার ফলে এক পশলা বৃষ্টিতেই ড্রেন ভরে গিয়ে জল গড়িয়ে যায় রাস্তার উপর দিয়ে।
এপ্রসঙ্গে এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা আরতি মিত্র অভিযোগ করেন, তাদের এলাকার এই সমস্যা নিয়ে এলাকার বিধায়ককে বারংবার মৌখিক এবং লিখিত আকারে জানিয়েছেন তারা। ভোটের পর এই বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন বিধায়ক। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও এখন আর দেখা নেই কারোরই।
কয়েক বছর ধরেই এমন জল দূর্ভোগে দিন কাটছে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের। বৃষ্টি হলে জল ভেঙেই এই রাস্তাদিয়ে যাতায়াত করতে হয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রী সহ এলাকার বাসিন্দাদেরকে। স্থানীয় পৌর পরিষদকে এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন তারা।
মিলেছে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি আজ পর্যন্ত। বৃষ্টি হলে কার্যত ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতে হয় এলাকার কয়েকটি পরিবারকে।
ঠিক এভাবেই এলাকার দুর্ভোগের কাহিনী ব্যাখ্যা করলেন এলাকার বাসিন্দা আশুতোষ দত্ত।একেবারে শহরের বুকে পৌর পরিষদ এলাকার এই ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিনের শাসনে উন্নয়নের প্রকৃত নমুনাকে।
রাজ্যের শহরাঞ্চলেই যখন হওয়া নেই বিকাশের পালে তখন গ্রাম-পাহাড়ে ভারত মাতা আর রামের নামে ধ্বনী দিয়ে চলা উন্নয়নের অবস্থা যে আরো শোচনীয় তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।