তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি :
রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী তথা কৃষ্ণপুরের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মা-র নির্বাচনী কেন্দ্র চাকমাঘাট পূর্ব বাজার এলাকায় সোমবার পানীয় জল ও বিদ্যুতের দাবিতে
অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ প্রায় দু’ থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের ডি.সি.এম হরিপদ সরকার, ডি.ডব্লিউ.এস দপ্তরের আধিকারিকরা এবং তেলিয়ামুড়া থানা ও মুঙ্গিয়াকামী থানা-র পুলিশ বাহিনী।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ উঠে গেলেও ঘটনা'কে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অবরোধ চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তেলিয়ামুড়ার সাংবাদিক হিরন্ময় রায় সহ আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় এক সি.পি.আই.(এম)-ঘনিষ্ঠ কর্মী সত্যব্রত দাস।
শুধু মৌখিক হুমকি নয়, সাংবাদিকদের কাজেও বাঁধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় স্থানীয় যুবক সুব্রত দাস-ও আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আক্রান্ত সাংবাদিক হিরন্ময় রায়ের পক্ষ থেকে তেলিয়ামুড়া থানা-য় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের কাজে বাঁধা, হুমকি ও দুর্ব্যাবহারের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর
এদিকে, এলাকায় ইতিমধ্যেই নানা বিতর্কে ঘেরা সত্যব্রত দাস'কে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জল-বিদ্যুতের প্রকৃত সমস্যাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে ব্যাবহার করে নেপথ্যে নেশা সামগ্ৰী পাচারের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা হচ্ছিল।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
গোটা ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির আন্দোলন কি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাব ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে?
চাকমাঘাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।