চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি। ২৫ আগস্ট।।
গত ১৫ আগস্ট চুরাইবাড়ি পি এম শ্রী দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনার রেশ ধরেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিদ্যালয় চত্বর।২৫ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে এবিভিপির উদ্যোগে
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় পাঁচশত ছাত্রছাত্রী ট্রেনে করে চুরাইবাড়ি রেল রেলস্টেশনে এসে জমায়েত হন। পরে সেখান থেকে পদযাত্রা করে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সামনে
পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবিভিপি নেতৃত্বরা।
এবিভিপির অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট বিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের কারণে জাতীয় পতাকা যথাযথ মর্যাদায় উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার পূর্ণ মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। যদিও এবিভিপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নীলাঞ্জনা পুরকায়স্থ এর দাবি, গত ১৫ আগস্ট যথাযথ নিয়ম ও মর্যাদা মেনেই বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।তখন বিদ্যালয়ে কোন ঘটনাই ঘটেনি।
পাশাপাশি দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সমস্ত কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনও সংঘর্ষ বা মারামারির ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
তবে ১৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে
উঠেছে। জানা গেছে, এবিভিপির সদস্যপদ গ্রহণ এবং চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত।যা পূর্বে এবিভিপির এক আহত সদস্য চিকিৎসাধীন ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের বেডে
থেকে স্বীকার করেছিল। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই ছাত্রগোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের একাধিক ছাত্র আহত হয় বলে অভিযোগ।
এরপর থেকেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এবিভিপির পক্ষের অভিযোগ, চুরাইবাড়ি বিদ্যালয়ে গেলে বহিরাগতদের একাংশ
তাঁদের উপর হামলা চালায়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় বাইরে থেকে এবিভিপির কিছু ছাত্র বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে তাঁদের উপর হামলা চালায়।
বিদ্যালয় চত্বরেই যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে,ফলে ঘটনার ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে ‘বহিরাগত’ কারা-এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরাইবাড়ি থানায় অভিযোগ পাল্টাও অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে তিনজনকে আটক করে ধর্মনগর জেলা আদালতে পাঠায়।
এরপরও থামেনি প্রতিবাদ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি এবিভিপির একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানায়।
অন্যদিকে, ৫৪ নম্বর কুর্তি-কদমতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চুরাইবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তাঁর অভিযোগ, বহিরাগতরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়ে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করেছে।
এতেই প্রশ্ন উঠছে-একটি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা কি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে? ছাত্রদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে যে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার,
সেটিই কি ক্রমাগত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে? সচেতন মহলের একাংশের মতে, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং লাগাতার আন্দোলনের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ। এদিকে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের কর্মসূচি শেষে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এবিভিপির ছাত্রছাত্রীরা চুরাইবাড়ি থানায় গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন
করেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
১৫ আগস্টের ঘটনার পর ২৫ আগস্ট মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোয় চুরাইবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ
অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।