নিজস্ব প্রতিনিধি , মেলাঘর :
শুধু ট্যাক্স আর ট্যাক্স, আর কাজের বেলা ফুরুত!" ক্ষোভে ফুঁসছে মেলাঘর পৌরসভার অধিবাসীরা।
মেলাঘর পৌরসভা মানেই কি শুধু সাধারণ মানুষের পকেট কেটে কর আদায়? নাগরিকদের মৌলিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন এই উদাসীনতা?
এমনটাই প্রশ্ন তুলছেন এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। এমনিতেই পৌরসভার নাম শুনলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে উন্নত নাগরিক সুবিধা
সুন্দর পরিবেশ এবং রঙিন ও চকচকে রাস্তাঘাট। কিন্তু মেলাঘর পৌরসভার ক্ষেত্রে ছবিটা
একেবারে উল্টো। এই পুরসভার ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঠিক মাঝামাঝি এলাকায়,
মেলাঘর-সোনামুড়া মূল সড়ক থেকে মাত্র ১০০ মিটারের একটি সংযোগকারী রাস্তার বেহাল দশা তুলে ধরছে পৌর প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা।
সামান্য এই ১০০ মিটার রাস্তা সংস্কার করার কোনো মুরদ বা মানসিকতা মেলাঘর পৌরসভার নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত,
কাদা আর জলের আস্তরণে ঢেকে থাকা এই পথ দিয়ে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও বিপদ মাথায় নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
কিন্তু এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর গুরুপদ রায়ের কোনো হেলদোল নেই বললেই চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোটের পর কাউন্সিলর গুরুপদ রায় কিংবা পুরসভার কোনো প্রতিনিধির দেখা মেলে না।
রাস্তার এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এলাকার ‘প্রমিলা বাহিনী’। রাস্তার কাদা-জলে দাঁড়িয়ে এবং চলাচলের পথ অবরোধের রূপ দিয়ে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় মহিলারা।
তাদের স্পষ্ট দাবি— আর কোনো ঢিমেতালের সংস্কার কাজ নয়, অবিলম্বে এই বিপজ্জনক ১০০ মিটার রাস্তাটিকে সুপরিকল্পিত ড্রেনসহ আধুনিক ‘সিটি রোডে’ রূপান্তরিত করতে হবে।
এলাকার ক্ষুব্ধ মহিলারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী দিনে মেলাঘর পুরসভার সামনে আরও বৃহত্তর ও তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এখন দেখার, প্রমিলা বাহিনীর এই গর্জনের পর মেলাঘর পৌরসভা ও কাউন্সিলর গুরুপদ রায়ের
ঘুম ভাঙে কিনা, নাকি কর আদায়ের বহর বজায় রেখে নাগরিক দুর্ভোগকেই নিয়তি বানিয়ে রাখা হবে।