BREAKING :
(1) ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের নাম তুলতে ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরি? অভিযোগ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে! জবাব দিল নির্বাচন কমিশন (2) অশান্তির আগুন কিছুতেই নিভছে না মণিপুরে। নতুন করে হিংসা এবং প্রাণহানির ঘটনার মধ্যেই শুক্রবার মণিপুরে ‘সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন’ বা ‘আফস্পা’-র (আর্মড ফোর্সেস স্পেশ্যাল পাওয়ার অ্যাক্ট) মেয়াদ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। (3) বালোচিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, পাক সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত একাধিক আফগান তালিবান

কচুর লতি চাষে কল্যাণপুরে বহু কৃষকের মুখে হাসি

কচুর লতি চাষে কল্যাণপুরে বহু কৃষকের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিনিধি , কল্যাণপুর : 


বর্ষার জলে যখন মাঠঘাট ভিজে সজীব হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই কল্যাণপুরের কৃষিজমিতে দেখা দিয়েছে সবুজের নতুন সমারোহ।

সারি সারি কচু গাছের পাতা আর তার মাঝ থেকে বেরিয়ে আসা কচুর লতি যেন কৃষকের পরিশ্রমের ফসল হয়ে বাজারে পৌঁছাচ্ছে।

একসময় বাড়ির আঙিনা কিংবা জমির এক কোণে সীমিত পরিসরে কচুর লতি চাষ হলেও বর্তমানে এর বাজারচাহিদাকে সামনে রেখে কল্যাণপুর এলাকার

Must Read ধজ্জ্বনগরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, নার্সিং শিক্ষাকে ঘিরে বড় উদ্যোগে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী ধজ্জ্বনগরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, নার্সিং শিক্ষাকে ঘিরে বড় উদ্যোগে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী

 বহু কৃষক পরিকল্পিতভাবে কচুর লতি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কম খরচে তুলনামূলক ভালো আয়ের সম্ভাবনা থাকায় এই চাষ এখন অনেক কৃষকের কাছে বিকল্প জীবিকার আশার

 আলো।সকালের সূর্য ওঠার আগেই কল্যাণপুরের বিভিন্ন কৃষিজমিতে শুরু হয়ে যায় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিচ্ছেন,

 আবার কেউ পরিপক্ব লতি সংগ্রহ করে বাঁশের ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখছেন। সংগ্রহ করা লতি পরে স্থানীয় বাজার ও হাটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। ভোরের বাজারে টাটকা কচুর লতির চাহিদা থাকায়

 অনেক সময় জমি থেকেই বিক্রির ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে।স্থানীয় কৃষকদের মতে, কচুর লতি চাষের অন্যতম সুবিধা হলো বর্ষাকালের আবহাওয়া ও আর্দ্র মাটির সঙ্গে এই ফসলের ভালো মানিয়ে

Also Read অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্ট এর উদ্যোগে মেগা রক্তদান শিবির ও প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্ট এর উদ্যোগে মেগা রক্তদান শিবির ও প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

 নেওয়ার ক্ষমতা। উপযুক্ত জমিতে সঠিকভাবে চাষ করলে নির্দিষ্ট সময় পরপর লতি সংগ্রহ করা যায়।

 ফলে একবার জমিতে গাছ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একই জমি থেকে একাধিকবার উৎপাদন পাওয়ার সুযোগ থাকে।

এতে কৃষকদের হাতে এককালীন নয়, পর্যায়ক্রমে আয় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কচুর লতি শুধু গ্রামীণ মানুষের খাদ্যতালিকার অংশ নয়, বর্তমানে শহর ও মফস্বলের বাজারেও এর যথেষ্ট

 চাহিদা রয়েছে। কচুর লতি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তরকারি, মাছের সঙ্গে রান্না কিংবা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পদ তৈরি করা হয়।

 পুষ্টিগুণ ও স্বাদের কারণে অনেক পরিবার নিয়মিত কচুর লতি কিনে থাকে। ফলে স্থানীয় বাজারে টাটকা লতির চাহিদা থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসল দ্রুত বিক্রি করতে পারছেন।

এক কৃষকের কথায়, ধান চাষের পাশাপাশি কচুর লতি উৎপাদন করায় একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই অনেকটা কাজ করে নিতে পারায় শ্রমিক খরচও কিছুটা কমানো সম্ভব হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের পরিমাণ সন্তোষজনক থাকে।

বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে এই ধরনের বিকল্প চাষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।তবে কচুর লতি চাষও সমস্যামুক্ত নয়।

অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে গেলে গাছের ক্ষতি হতে পারে। রোগ-পোকার আক্রমণ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত চারা বা বীজের অভাব এবং বাজারদরের

ওঠানামাও কৃষকদের চিন্তার কারণ। অনেক সময় কৃষকরা মাঠে ভালো উৎপাদন করলেও সংরক্ষণ ও পরিবহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বাজারজাত করতে বাধ্য হন।

ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতাও তৈরি হয়। কৃষকদের দাবি, কচুর লতি চাষে প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের চারা, জৈব ও বৈজ্ঞানিক

পদ্ধতিতে রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ এবং সরাসরি বাজার সংযোগ তৈরি করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক গোষ্ঠী বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে কচুর লতি সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষকরা আরও ভালো দাম পেতে পারেন।


কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে কৃষকদের আয় বাড়াতে একই জমিতে একাধিক সম্ভাবনাময় ফসলের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফসল নির্বাচন এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে চাষ করলে কৃষিতে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সেই দিক থেকে কচুর লতি চাষ কল্যাণপুরের ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।কল্যাণপুরের মাঠে এখন তাই শুধু কচু গাছের সবুজ পাতা নয়,

কৃষকের চোখে দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতের স্বপ্নও। মাটির বুক থেকে উঠে আসা প্রতিটি কচুর লতি যেন পরিবারের সংসারে এনে দিচ্ছে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা। সঠিক পরিকল্পনা,

বাজার সংযোগ ও সরকারি সহায়তা পেলে এই চাষ আরও বিস্তৃত হবে এমনটাই প্রত্যাশা কৃষকদের।

বর্ষার সবুজ মাঠে তাই কচুর লতির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে কল্যাণপুরের কৃষকের মুখের হাসিও।

Admin Desk

Admin Desk

I am senior editor of this News Portal. Me and my team verify all news with trusted sources and publish here.

Home Shorts

Categories

Facebook YouTube Instagram X (Twitter) WhatsApp Telegram