নিজস্ব প্রতিনিধি ,উদয়পুর | ২৬ সেপ্টেম্বর :
গন্ডাছড়ার নারিকেল বাগান এলাকার বাসিন্দা পত্যজয় চাকমার কাছে গত বৃহস্পতিবার ভোরটি নিয়ে এসেছিল চরম বিপদ। ভোর পাঁচটা নাগাদ নিজের বাড়িতেই তাকে একটি অত্যন্ত বিষধর
'ব্ল্যাক ক্রেইট' সাপ কামড় দেয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গণ্ডাছড়া হাসপাতাল থেকে তাকে দ্রুত উদয়পুরের গোমতী জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
দুপুর বারোটা নাগাদ সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকদের তৎপরতায় কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন ওই যুবক। আজ সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
গোমতী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার এন সি দাসের নেতৃত্বে শুরু হয় এই অদম্য লড়াই। ডক্টর দাস জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পর রোগীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত
সংকটজনক। সাপের বিষ ততক্ষণে সারা শরীরে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, রোগী নিজের চোখ বা মুখ খুলতে পারছিলেন না এবং তাঁর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি মুখ দিয়ে
গ্যাঁজলা বের হচ্ছিল। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রাও ছিল অনেক কম। কালক্ষেপণ না করে দ্রুত অ্যান্টি-স্নেক ভেনাম প্রয়োগ শুরু করা হয়। প্রথম কুড়িটি ভেনাম দেওয়ার পর
রোগীর অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করে। মোট ত্রিশ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনাম এবং ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশন প্রয়োগের পর
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট ও মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এই অসাধ্য সাধনের পেছনে হাসপাতালের সম্পূর্ণ মেডিকেল টিমের এক অনবদ্য দলগত প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডক্টর এন সি দাস।