নিজস্ব প্রতিনিধি , বিলোনিয়া | ২৫ সেপ্টেম্বর:-
পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আদর্শ ছড়াতে গিয়ে আয়োজকদের আদর্শই প্রশ্নের মুখে, সময় জ্ঞানহীনতায় নাজেহাল ছাত্রছাত্রী থেকে অতিথি ।
সরকারি টাকায় তৈরি অডিটোরিয়াম আছে, কনফারেন্স হল আছে, টাউন হল আছে, স্কুলে স্কুলে মুক্ত মঞ্চ আছে। তবুও সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য ভরসা সেই বিয়ে বাড়ি।
এমনই এক আজব কান্ডে হতবাক বিলোনিয়া বাসী। হাসির রোল উঠেছে চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনা, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত পন্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায়ের জন্ম জয়ন্তীকে ঘিরে।
আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ভারতচন্দ্র নগর ব্লক। আর বিভাগ ভিত্তিক এই অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হলো একটি বিয়ে বাড়িকে। প্রশ্ন উঠছে, কেন? কার স্বার্থে এই বিয়ে বাড়ি প্রীতি?
লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি পরিকাঠামো কি তবে শুধুই শো-পিস? এখানেই শেষ নয়। আমন্ত্রণ পত্রে অনুষ্ঠান শুরুর সময় লেখা সকাল এগারোটা।
সেই মতো বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিকরা সময় মতো হাজির। কিন্তু গিয়ে দেখেন, মঞ্চ সাজানোই হয়নি!
আয়োজকরা তখন ফুল, মালা, চেয়ার-টেবিল নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত। চরম গাফিলতি আর খামখেয়ালিপনার নজির।
শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছাত্রছাত্রী ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মীদের সাহায্য নিয়েই বেলা একটা নাগাদ নমো নমো করে শুরু হয় অনুষ্ঠান।
তাও আবার জায়গার অভাবে সে এক বিশ্রী অবস্থা। ভিতরে তিল ধারণের জায়গা নেই। ফলে ছাত্রছাত্রীদের একাংশকে বিয়ে বাড়ির অন্য ঘরে, কাউকে বাইরে বসে আড্ডা মারতে দেখা গেল।
যে মহান ব্যক্তির আদর্শ দিক-দিগন্তে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়, সেই আদর্শ কতটুকু ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছল, তা সহজেই অনুমেয়।
এই দৃশ্য দেখে জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের বরিষ্ঠ তথ্য আধিকারিক মনোজ দেববর্মা মুখে কিছু না বললেও তার মুখে স্পষ্ট বিরক্তি ও উদ্বেগের ছাপ ফুটে ওঠে।
জানা গেছে, এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিলোনিয়া পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র গোপ, ভারতচন্দ্র নগর ব্লকের চেয়ারম্যান পুতুল পাল বিশ্বাস,
এসবিসি নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজ্যেশ্বর সেন সহ অন্যান্যরা। চারা গাছে জল সিঞ্চন, নৃত্য, গান ও আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ডঃ পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের জন্মদিন কি এতটাই গুরুত্বহীন আয়োজকদের কাছে যে,
বিয়ে বাড়িতে কোনোরকমে সেরে দিতে হলো? সরকারি অনুষ্ঠানকে বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে পরিণত করার এই নজিরবিহীন ঘটনায় ক্ষুব্ধ সচেতন মহল।