নিজস্ব প্রতিনিধি।। ধর্মনগর,২৪ আগস্ট :
বিদ্যুৎ পরিষেবা বেসরকারীকরণ বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত শুল্ক ও স্মার্ট মিটার প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার হলো ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’।
সোমবার সংগঠনের ধর্মনগর বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ধর্মনগরের টিজিটিএ (TGTA) অফিসের
সামনে থেকে শুরু হয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনে অনুষ্ঠিত দুই ঘণ্টার এই বিক্ষোভ সভায় সভাপতিত্ব করেন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির
সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে সিআইটিইউ (CITU) রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি অমিতাভ দত্ত রাজ্য সরকার ও বিদ্যুৎ নিগমের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
অমিতাভ দত্ত তাঁর বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি শুল্ক বৃদ্ধি, ডিউটি চার্জ, ফুয়েল চার্জ এবং ফিক্সড চার্জের নামে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির যে অযৌক্তিক ও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,
তা সাধারণ মানুষের ওপর চরম আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রিপেইড গ্রাহকদের রিচার্জ ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটি অবিলম্বে দূর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,
প্রিপেইড স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে পুনরায় পুরনো ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি স্পষ্ট জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থার বেসরকারীকরণ প্রচেষ্টা বন্ধ করে একে সম্পূর্ণরূপে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
একই সাথে, সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল-২০২৫ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তিনি।
সংস্থার চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মীদের স্থায়ীকরণ বা নিয়মিতকরণ, দীর্ঘদিনের শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করা, কর্মীদের জন্য অবিলম্বে ‘সার্ভিস রুল’ কার্যকর করা এবং
কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত কর্মীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি তুলে ধরা হয়।উক্ত প্রতিবাদ সভায় অমিতাভ দত্ত
ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সদস্য রতন রায় এবং বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, বিদ্যুৎ গ্রাহক
ও কর্মীদের এই যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো দ্রুত মেনে না নেওয়া হলে আগামী দিনে রাজ্যব্যাপী আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।