নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর | 12 সেপ্টেম্বর :
গোমতী জেলার জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের উদ্যোগে পঞ্চায়েত রাজ ট্রেনিং ইন্সিটিউটে আজ পশু ও সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা বা 'স্নেক বাইট ম্যানেজমেন্ট' বিষয়ক এক মেগা সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রামীণ ও সাধারণ স্তরে সাপের কামড়ের ঝুঁকি এড়াতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আজকের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের চিকিৎসক এবং সর্প বিশেষজ্ঞ ডাঃ উদয় শঙ্কর সরকার এবং শ্রী দীপ্তণু দেবনাথ,
যারা দীর্ঘদিন তাঁরা সাপ উদ্ধার এবং এই সাপকে রক্ষা এবং সাপ চেনার বিষয়ে তারা নিরলস কাজ করে চলেছেন। ।
তাঁদের মূল্যবান প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা পেশাগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জেলার প্রোগ্রাম অফিসার ডাঃ শৌমিক চক্রবর্তী।
আজকের অনুষ্ঠানে আশাকর্মী, এ এন এম, এম পি ডব্লিও, সিএইচও, টি আর এল এমের স্বাস্থ্য সখি দিদিমনি এবং আপদা মিত্র বা সিভিক ভলেন্টিয়ারসহ মোট ১৮৫ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্কশপে জানানো হয়, বিগত প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে গোমতী জেলায় প্রায় ১৫টি সাপের কামড়ের ঘটনা সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
তিনি এরজন্য চিকিৎসকের পাশাপাশি ডাঃ উদয় শঙ্কর সরকার এবং শ্রী দীপ্তণু দেবনাথকেও ধন্যবাদ জানান।
সাধারণ মানুষকে সহজ উপায়ে বিষাক্ত ও বিষহীন সাপ চিনতে শেখানো এবং সাপের কামড় খাওয়ার পর তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানই ছিল আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
যেকোনো বন্যপ্রাণী বা বন্যজীবের কোনো রকমের যদি আক্রমণ হয় বা কামড় হয় বা বাইট হয়, আপনারা অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি যে সরকারি হসপিটাল রয়েছে সেগুলোতে যাবেন। এবং সেখানে সাপের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ভেনাম এবং অন্যান্য জীবজন্তুর ক্ষেত্রে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন অ্যাভেলেবল রয়েছে।
আপনারা কখনোই যে ট্রেডিশনাল ট্রিটমেন্ট বা ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না। কারণ সেক্ষেত্রে যদি কোনো বিষধর সাপ যদি কামড়ে থাকে,
তাহলে কিন্তু কোনো রকমের ওঝা-বুদ্ধি বা তাবিজ-কবজ সেগুলোকে ভালো করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে জীবনহানি হতে পারে এবং তার জন্য কিন্তু গভমেন্টও তখন কিছু করতে পারবে না।
সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অতীতে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দিপ্তনু দেবনাথ জানান, গত ২০২৩ সালে ৫ জন, ২০২৪ সালে ৪ জন, ২৫ সালে ৭ এবং ২০২৬ সালে মাত্র ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তাই সাপের কামড় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগীর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উদয়শংকর বাবু বন্যপ্রাণী ও সাপের গুরুত্ব বলতে গিয়ে বলেন সবাইকে সজাগ এবং সচেষ্ট হতে হবে যাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি, যেটাকে 'গোল্ডেন পিরিয়ড' বলা হয় যে ১০০ মিনিটের মধ্যে
যাতে হসপিটালে গিয়ে সাপে কাটার ক্ষেত্রে যদি বিষধর সাপ হয় সেক্ষেত্রে যাতে অ্যান্টি-ভেনামটা নিতে পারেন।
এবং সেটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রত্যেকটা আমাদের জেলা, মহকুমা হাসপাতাল, সিএইচসি, পিএইচসি, - সব জায়গায় এন্টি ভেনাম রয়েছে এবং কোনো বন্যপ্রাণী যাতে হত্যা করা না হয়,
আপনারা সাপকে মারতে যাবেন না বা বন্যপ্রাণী হত্যা করবেন না, সেগুলো আমাদের পরিবেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমরা এই সমস্ত স্নেকবাইট বা বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণের পাশাপাশি ট্রিটমেন্টও দিয়ে যাচ্ছি। মানুষও সুস্থ থাকুক আমরা চাই এবং বন্যপ্রাণীও যাতে সুস্থ থাকে সেটাই আমরা চাই।"