নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, 10 সেপ্টেম্বর:
খোয়াইয়ের ধলাবিল চা বাগানে বোল্ডোজার দিয়ে চা গাছ কেটে জমি পরিষ্কার করার ঘটনাকে ঘিরে চা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য বাগানের ওই অংশের জমি পরিষ্কার করা হচ্ছে বলে ঘটনাস্থলে থাকা এক ঠিকাদার শ্রমিকদের জানিয়েছেন বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, চা বাগানের একটি অংশে বোল্ডোজার দিয়ে চা গাছ কেটে ফেলার কাজ চলাকালীন বিষয়টি নজরে আসে কর্মরত চা শ্রমিকদের।
তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে কাজের কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত এক ঠিকাদার জানান, ওই এলাকায় সরকারি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে এবং সেই কারণেই জমি পরিষ্কারের কাজ চলছে।ঠিকাদারের এই বক্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা।
তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শ্রমিকদের বক্তব্য, ধলাবিল চা বাগান একটি চা শিল্প সমবায় সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক রয়েছেন। অথচ তাঁদের আগাম কিছু না জানিয়ে কীভাবে বাগানের চা গাছ কেটে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হলো, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
শ্রমিকদের দাবি, একসময় এই চা বাগানের ওপর প্রায় এক হাজার শ্রমিকের পরিবার নির্ভরশীল ছিল।
বর্তমানে বাগানটি কার্যত দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং শ্রমিকের সংখ্যা কমে প্রায় দুইশতে দাঁড়িয়েছে।
বাগানে বর্তমানে যে পরিমাণ চা গাছ রয়েছে, তার ওপরই অবশিষ্ট শ্রমিকদের জীবিকা অনেকটাই নির্ভরশীল।
এই পরিস্থিতিতে নির্বিচারে চা গাছ কেটে ফেলা হলে আগামী দিনে শ্রমিকদের জীবিকা আরও সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
শ্রমিকদের বক্তব্য, সরকারি কোনো প্রকল্পের জন্য বাগানের জমি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা উচিত ছিল।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে খোয়াই মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলা হবে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাগানে চা গাছ কাটা বা জমি পরিষ্কারের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
চা বাগানের জমিতে সরকারি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলে তার আগে সমবায় সমিতি, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে
আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধলাবিল চা বাগান এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।