নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনামুড়া | ৯ সেপ্টেম্বর :
মা-বাবার কাঁধে দুই সন্তানের লাশ: মেলাঘর চরের মালেক মিয়ার জীবনে আঁধার নামাল ভাগ্য।
তিন বছরের ব্যবধানে দুটি তাজা প্রাণ নিভে গেল এক ছাদের নিচে।
যে বয়সে ছেলেরা বৃদ্ধ মা-বাবার লাঠি হওয়ার কথা, সে বয়সে পর পরপর দুটি সন্তানকে কবর দিতে হলো তাদের।
এমন নির্মম পরিণতিতে যেন মেলাঘর চর এলাকার মালেক মিয়ার গোটা পরিবারের ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে।
মা-বাবা জীবিত থাকতে দুটি সন্তানের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মাত্র তিন বছর আগের কথা। মেলাঘর চরের মালেক মিয়ার ছোট ছেলে ৩২ বছরের মনির হোসেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
সেই শোকের ক্ষত এখনো শুকায়নি, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই দিন কাটাচ্ছিলেন মা-বাবা। কিন্তু বিধাতার নির্মম নিয়তি যেন এখানেই থেমে থাকেনি।
গতকাল মালেক মিয়ার বড় ছেলে, ৩৯ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর হোসেন হঠাৎ স্ট্রোক করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত আগরতলা জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুটি ছোট মেয়েকে রেখে গেছেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
সন্তানদের অকালমৃত্যুতে মা-বাবার করুণ আর্তনাদ ও দুই অবুঝ শিশুর বুকফাটা কান্না মেলাঘর চরের আকাশ- বাতাস ভারী করে তুলেছে।
একজন মা-বাবার পক্ষে জীবিত অবস্থায় দুই যুবকের অকালপ্রস্থান সহ্য করা কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা ভেবে পুরো এলাকাবাসী স্তব্ধ।
শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে পুরো মেলাঘরনচর এলাকায়, কোনো সান্ত্বনাই আজ এই পরিবারটিকে শান্ত করতে পারছে না।