নিজস্ব প্রতিনিধি , কাঁঠালিয়া :
যেদিকে চোখ যায়, এখন শুধু কর্ম ব্যস্ত কৃষি জমিতে কৃষক আর কৃষি মজুর।
সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি অবিশান্ত পরিশ্রমের শিকার এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গরা।
এরাই হচ্ছে সমাজের প্রকৃত অন্নদাতা। কিন্তু এই অন্নদাতাদের খবর কে রাখে! এখন চলছে আমন ধানের রোঁয়া লাগানোর পালা। শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত কৃষি জমিতে আমন দানের রোঁয়া লাগানোর কাজ শেষ করতে হবে।
তারপর শুরু হবে সপ্তাহ খানিকের মধ্যেই আগাছা বাছাই এর কাজ, এবং রাসায়নিক সার ও ওষুধ দেওয়ার কাজ।
অর্থাৎ গ্রামীণ এলাকায় কৃষক ও কৃষি মজুররা বিরামহীন কর্মব্যস্ততায় দিনরাত খাটুনি খেটে চলতে হচ্ছে।
কাঠালিয়া ব্লকের অন্তর্গত উত্তর মহেশপুর কৃষি মাঠে এমনই দৃশ্য দেখা গেল সকালবেলায়। প্রান্তিক চাষী মধু পাল ও লিটন পাল সহ আরো অনেকেই জানালেন দেখুন,
আমরা প্রান্তিক এবং বর্গা চাষী, আমাদের কোন কৃষি জমি নেই। বিকল্প কোন কর্মসংস্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষিকাজেই করতে হচ্ছে।
না হয় পরিবার চালাবো কি করে, আবার কৃষি কাজ করতেও নিরুপায়। কারণ, যে টাকা পয়সা খরচ হয় তা থেকে খুব একটা বেশি লাভবান হয় না।
নিরুপায় হয়ে এখনো কৃষিকাজ করে যাচ্ছি, তবে আগামী কৃষিকাজ করাটা সম্ভব হবে কিনা তা অনিশ্চিত।
নতুন যুবক যারা তারা এখন আর এই কাজে মনোযোগী নয়, বিকল্প কাজের সন্ধানে তারা রয়েছে। আমরা যারা মাঝ বয়সি বা বৃদ্ধ আমাদের এই কাজ ছাড়া সামনে বিকল্প কোন কাজ নেই।
যে কারণে এই কাজটাই করতে হচ্ছে।তবে, হাটবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আগামী দিন কিভাবে কৃষিকাজ করব বা পরিবার চালাবো এখন একেবারেই নিরুপায়।
কৃষি ও কৃষি দপ্তর যদি কৃষকের প্রতি নজর রাখেন তাহলে পরে সম্ভব হবে কৃষি কাজ করা। তা না হলে আগামী দিন প্রান্তিক এবং বর্গা চাষীদের কৃষিকাজ করা মোটেই সম্ভব।