নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর :
ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরায় প্রতিভার অভাব নেই। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজে অনন্য নজির স্থাপন করছেন অনেকেই।
তেমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উদয়পুরের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থসারথি দাস। উদয়পুর বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এবং জীববিজ্ঞানের শিক্ষক পার্থসারথি দাস অবসর গ্রহণের পরও থেমে থাকেননি।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়াতে নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি জীববিজ্ঞান গবেষণাগার—‘অঙ্কুরণ বায়োলজি ল্যাব’।
জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকেই নিজের বাড়িতে ছোট পরিসরে একটি ল্যাবরেটরি তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরির কাজ শুরু করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর এই উদ্যোগ আরও বড় আকার ধারণ করে।
বর্তমানে এই ল্যাবে রয়েছে ত্রিপুরার প্রায় ৬৫ প্রজাতির মাছ ও প্রাণীর নমুনা, প্রায় ৯০ প্রজাতির উদ্ভিদের পাতা, বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের সংগ্রহ এবং প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মডেল।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাশাপাশি হাতে-কলমে জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
পার্থসারথি দাসের মূল লক্ষ্য, বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও সহজ, আনন্দদায়ক ও বাস্তবভিত্তিক করে তোলা। তাঁর এই ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ পাবে।
ইতিমধ্যেই তাঁর এই উদ্যোগ শিক্ষক মহল, শিক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের নজর কেড়েছে। ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর গোমতী জেলা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি এই ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করে উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।
পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর স্টাডি ট্যুরের অংশ হিসেবে এই ল্যাবরেটরি পরিদর্শনের বিষয়টিও বিবেচনার কথা উঠে আসে।
অবসর জীবনকে বিশ্রামের পরিবর্তে জ্ঞান বিতরণের কাজে উৎসর্গ করেছেন পার্থসারথি দাস।
তাঁর ‘অঙ্কুরণ বায়োলজি ল্যাব’ শুধু একটি গবেষণাগার নয়, বরং আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার এক অনন্য প্রচেষ্টা।