নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর :
রবিবার রাতে উদয়পুর মহকুমার মাতাবাড়ি সংলগ্ন বেলতলী গ্রামে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড।
ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে কাঠের ফাইল দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল পেশায় শিক্ষক অজিত দাসের বিরুদ্ধে। পরিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদই এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক অজিত দাসের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রূপা দাসের দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুসম্পর্ক ছিল না।
রূপা দাস পেশায় একটি বেসরকারি ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের একমাত্র পুত্র দিগন্ত দাস আগরতলায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছিলেন। রবিবার রাতে কোনো এক সময় অজিত দাস একটি ভারী কাঠের ফাইল দিয়ে ঘুমন্ত স্ত্রী ও পুত্রের মাথায় সজোরে আঘাত করেন।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মা ও ছেলের। জোড়া খুনের পর অভিযুক্ত অজিত দাস নিজেও বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
গ্রামবাসীরা বিষয়টি টের পেয়ে তড়িঘড়ি দমকল বাহিনীকে খবর দিলে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি অচৈতন্য অবস্থায় অজিতকে উদ্ধার করে।
বর্তমানে তিনি টেপানিয়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার খবর পেয়ে আজ সকালে বেলতলী গ্রামে পৌঁছান উদয়পুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায় এবং রাধাকিশোরপুর থানার ওসি সঞ্জীব লস্কর। সঙ্গে ছিল পুলিশের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল।
পুলিশ পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে প্রাথমিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরে মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ছেলের এমন পৈশাচিক কাণ্ডে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন অজিত দাসের বাবা নারায়ণ চন্দ্র দাস।
তিনি জানান:"ছেলে কেন এমন কাণ্ড ঘটাল, তা আমরা ভেবে পাচ্ছি না। ওর মানসিক সমস্যা ছিল ঠিকই, কিন্তু নিজের স্ত্রী-সন্তানকে এভাবে শেষ করে দেবে তা কল্পনাও করা যায় না।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার মূল কারণ জানতে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।