ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স-এ অ্যাকাউন্ট খুলতে এতদিন কোনো পরিচয় প্রমাণের দরকার পড়ত না। যে কেউ যেকোনো নামে অ্যাকাউন্ট বানিয়ে যা খুশি করতে পারত। সেই দিন শেষ হতে পারে খুব শীঘ্রই। ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বাধ্যতামূলক KYC চালুর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি, আর এই খবর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
কোথা থেকে এল এই প্রস্তাব?
সংসদের মহিলা কমিটির ২০২৫-২৬ সালের চতুর্থ রিপোর্টে এই সুপারিশ উঠে এসেছে। রিপোর্টটি ইতিমধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভা — দুই কক্ষেই পেশ করা হয়েছে। অনলাইনে ভুয়ো প্রোফাইল, পরিচয় চুরি, সাইবারস্টকিং এবং ব্যক্তিগত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ যেভাবে বাড়ছে, তা রুখতেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি ডেটিং ও গেমিং অ্যাপেও KYC বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।
ঠিক কী কী বদলাতে পারে?
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের জন্য একবার KYC যাচাই করলেই চলবে না। নির্দিষ্ট সময় পরপর রি-ভেরিফিকেশনও করতে হবে। অর্থাৎ আধার বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে অ্যাকাউন্টের মালিক আসলে কে। যেসব অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ আসছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
এছাড়া ডিপফেক মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, ফরেনসিক তদন্তের ক্ষমতা জোরদার করা এবং সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া মানুষদের পুনর্বাসনের বিষয়গুলিও এই রিপোর্টে গুরুত্ব পেয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্তের দরকার হলো?
এতদিন ধরে ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অপরাধ করার পর চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। কারণ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আসল মানুষের কোনো যোগসূত্র থাকত না। KYC বাধ্যতামূলক হলে অপরাধীকে শনাক্ত করা যাবে দ্রুত, আর অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে কমিটি।
কিন্তু উদ্বেগও আছে
এই প্রস্তাব নিয়ে সবাই একমত নন। বিশেষজ্ঞ মহলের একটা বড় অংশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে চিন্তিত। KYC মানেই আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, যা ডেটা লিক বা সরকারি নজরদারির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। আরেকটা বড় সমস্যা হলো, দেশের অনেক মানুষের কাছে এখনও বৈধ পরিচয়পত্র নেই। ফলে কঠোর নিয়ম চালু হলে তারা ডিজিটাল দুনিয়া থেকে একেবারে ছিটকে যেতে পারেন।
আপাতত এই প্রস্তাব সুপারিশ পর্যায়েই রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে যদি এটি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ধরনটাই আমূল বদলে যাবে।