নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা :
২০১১ সালে মা ,মাটি, মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার মসনদে বসে।
বামেদের বহু অত্যাচার সহ্য করে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলায় ফিরে আসে। ২০১১ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। একের পর এক জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের জন্য নিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে যুবশ্রী ও পথশ্রী থেকে শুরু করে সবুজশ্রী এছাড়া বিধবা ভাতা, যুব সাথী , লক্ষীর ভান্ডার সহ মোট ১০০টি ভাতা চালু করে বাংলার বুকে । লোকসভা নির্বাচনে কখনো উত্থান পতন আবার কখনো বিপুল ক্ষমতা ফিরে আসে এই বাংলায়।
কালীঘাটের ছোট্ট টালিঘর থেকে বাংলার এই মেয়েটি গোটা বাংলাকে পরিচালনা করেছে। করোণা থেকে শুরু করে আমফান সমস্ত বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মমতা।
কিন্তু দলের ভেতরে ক্ষোভ, বিক্ষোভ একের পর এক বাড়তে থাকে। এ বিষয়টি কোনভাবেই দল জেলা কমিটি থেকে রাজ্য কমিটি পর্যন্ত নিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
উদার মনের মানসিকতা একটা সময় দলের মধ্যে এমনভাবে গ্রাস করেছে যা বুথস্তরে ঢিলেঢালা মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। দেখতে দেখতে ২০২৬ সাল তথা বিধানসভা নির্বাচন চলে আসে পশ্চিমবঙ্গে।
নানাভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সরকার থেকে সরানোর জন্য কেন্দ্রের মোদি সরকার নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। কখনো তদন্তকারী সংস্থা কখনো নানা মামলায় বহু অফিসার দিয়ে দিল্লিতে ডাকানো। রাজ্যের অর্থ রাশি কমিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে SIR দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলি ব্যাপকভাবে ঘিরে ধরে।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে এই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা থেকে অনেকটা দূরে গিয়ে যখন তখন বিভিন্ন সরকারি আধিকারিককে রাজ্যের মধ্যে কোন ঠাসা করে ফেলেন।
একের পর এক সমস্যা ঝড়ের গতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে আসতে শুরু করে। তারপরেও দল নিজেদেরকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে।
শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৪ ঠা মে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত হন।
বর্তমানে বিভিন্ন গরিব অংশের মানুষ বলতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পগুলি যদি বন্ধ হয়ে যায় রাজ্যের বুকে এক হাহাকার সৃষ্টি হবে।
খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষগুলি অনাহারে দিন কাটবে বলে মনে করছে বাংলার একটি বড় অংশের জনতা। দল বর্তমানে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করবে।
কেন এই ধরনের বিপর্যয় হলো। আগামী দিন দল ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা চালাবে বলে জানা যাচ্ছে দলীয় সূত্রে। এ নিয়ে আজ বিকেল চারটা নাগাদ কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়েছে