চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি।৫ মে।।
ধর্মনগর পুর পরিষদের কাউন্সিলর এবং যুব মোর্চার মন্ডল প্রেসিডেন্ট রাহুল কিশোর রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে ধর্মনগর চন্দ্রপুর এলাকায়।
রাহুল কিশোর রায়ের এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে মানসিক নির্যাতন ও অপমানের অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী,পিতা রঞ্জিত কিশোর রায় এবং মা অঞ্জনা ভট্টাচার্য।
নিহতের পরিবারের দাবি, গত সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় লাঞ্ছনা ও হুমকির চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন রাহুল।
মৃতরাহুল কিশোর রায়ের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, কঙ্কন চৌধুরী, বাবলু এবং তাদের সাথে আসা ৬-৭ জন লোক বাড়িতে ঢুকে রাহুলকে চরম অপমান করেন। তিনি বলেন,ওরা আমার স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে এবং ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
আমার স্বামী এই অপমান সহ্য করতে পারছিল না।" তিনি আরও জানান, রাহুল বারংবার দলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে সাহায্য চাইলেও কোনও সাড়া পাননি। নিহতের স্ত্রী এই ঘটনায় জড়িত কঙ্কন ও বাবলু সহ প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে রাহুলের বৃদ্ধ পিতা রঞ্জিত কিশোর রায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, সোমবার বিকেলে কঙ্কন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক তাদের বাড়িতে আসে।
তারা রাহুলকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য রীতিমতো তান্ডব চালায় এবং অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করে।
রঞ্জিত বাবু বলেন, "রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আবার ওরা এসে ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে এবং রাহুলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। ভয়ে আমরা কেউ দরজা খুলিনি।" এরপর ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ যখন তিনি বাথরুমে যান, তখন সেখানে রাহুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
রাহুলের মা অঞ্জনা ভট্টাচার্য জানান, ছেলের বিপদের কথা বুঝতে পেরে তিনি তাকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি রাহুলকে বাঁচাতে তিনি আক্রমণকারীদের পায়ে পর্যন্ত ধরতে চেয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কঙ্কন চৌধুরী, জন চক্রবর্তী, হিরক এবং বাবলু সহ একদল লোক রাহুলকে 'কুলাঙ্গার' ও 'চরিত্রহীন' বলে অপমান করে এবং তাকে টেনে হিঁচড়ে মারার হুমকি দেয়।
প্রশাসনের কাছে তিনি তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত বিচার চেয়েছেন।
রাহুল কিশোর রায় ধর্মনগর পুর পরিষদের কাউন্সিলর হওয়ার পাশাপাশি যুব মোর্চার মন্ডল সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের বয়ানে স্পষ্ট যে, এই ঘটনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক কোন্দল বা দলীয় অভ্যন্তরের রেষারেষি থাকতে পারে।
পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
শাসক দলের একজন সক্রিয় নেতার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ধর্মনগরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।