নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর:
উদয়পুর শহর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে বসতবাড়িতে চুরির উপদ্রব। এবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এক শিক্ষকের বাড়িতে
সংঘটিত হলো দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে উদয়পুর পৌর পরিষদের অন্তর্গত মহাদেব দিঘীর পূর্ব পাড় এলাকায়, পেশায় শিক্ষক বিপ্লব সাহার বসতবাড়িতে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে শিক্ষক বিপ্লব সাহা তাঁর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে অমরপুরের পুরোনো বাড়িতে বেড়াতে যান। বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে
লাগিয়ে সেই রাতেই চোরের দল হানা দেয়। ঘরের মূল দরজার তালা ও হুক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায় চোরের দল । বসত ঘরের দুটি গোদ্রেজসহ একাধিক আলমারি ভেঙে
তছনছ করা হয়। চোরের দল ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪ থেকে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দেয়। মঙ্গলবার সকালে বিপ্লব সাহার ভাই পার্থপ্রতিম সাহা বাড়িতে গিয়ে
এই তাণ্ডবলীলা দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে যান। তিনি অবিলম্বে অমরপুরে থাকা বিপ্লব সাহাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দ্রুত নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন বিপ্লব সাহা এবং রাধাকিশোরপুর
থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাধাকিশোরপুর থানার পুলিশ এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরম
আকার ধারণ করেছে। পার্থপ্রতিম সাহা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন—গোমতী জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে কীভাবে এত
বড় চুরির ঘটনা ঘটে? এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, রাধাকিশোরপুর থানা এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও চোরদের চিহ্নিত
করা বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ঘনবসতিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কাছে বারবার এমন ঘটনায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে থাকা স্থানীয় থানার
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সক্ষমতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।