নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা :
ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হল ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ফেডারেশন এবং ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন।
মঙ্গলবার আগরতলাস্থ ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই সংগঠনের উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি আগামী ৮ ও ৯ আগস্ট আগরতলায় অনুষ্ঠিতব্য দুই সংগঠনের প্রথম যৌথ সম্মেলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুই ফেডারেশনের চেয়ারপার্সন বিপ্লব সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ফেডারেশনের সভাপতি ডেভিড দেববর্মা,
সাধারণ সম্পাদক তমাল দেবনাথ, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি অন্বেষা দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সৌভিক নাগ।
সাংবাদিক সম্মেলনে ফেডারেশনের মুখপাত্র তমাল দেবনাথ জানান, আগামী ৮ ও ৯ আগস্ট আগরতলার হোটেল সোনারতরীতে বিকেল ৫টা থেকে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স
ফেডারেশন ও ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের প্রথম যৌথ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের ৮ আগস্টের উন্মুক্ত অধিবেশনে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সম্মেলনকে সামনে রেখে যৌথ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি সনদ প্রকাশ করা হয়।
দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, নবম যৌথ নোট এবং দ্বাদশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে সমস্ত বকেয়া আর্থিক ও অ-আর্থিক সুবিধা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, স্পনসর ব্যাংকের সমপর্যায়ে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল ভাতা, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মচারী কল্যাণমূলক সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক আইনের বিধান অনুযায়ী স্পনসর ব্যাংক থেকে কর্মী ডেপুটেশনের মাধ্যমে পাঠানো বন্ধ করতে হবে।
একইসঙ্গে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের স্বতন্ত্র সত্তা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, ব্যাংকের সমস্ত শূন্য অফিস সহায়ক পদে অবিলম্বে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
পঞ্চমত, আর্থিক পরিষেবা বিভাগের নির্দেশিকা অনুযায়ী স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে বর্তমান বদলি নীতি সংশোধন করে তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
যৌথ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।
তাঁদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলির প্রতি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণ করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
নেতৃবৃন্দ আরও আশা প্রকাশ করেন, গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের
সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা হবে এবং দাবি সনদে উত্থাপিত বিষয়গুলি বাস্তবায়নে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।