নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর :
চলতি রবি মরশুমে রাজ্যের ৩১ টি স্থানে কৃষক বন্ধুদের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে কুইন্টাল প্রতি ২ হাজার ৩৬৯ টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে ।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গত ১০ জুলাই কাকড়াবন স্কুল ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর ডক্টর মানিক সাহার হাত ধরে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে ধান কেনা প্রক্রিয়ার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয় গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার মাতাবাড়ি ধন্য মানিক্য মুক্তমঞ্চে খাদ্য ও জনসংভরণ দপ্তর এবং মাতাবাড়ি কৃষি মহকুমার সহায়তায় । ১৮ তারিখ ধান কেনা শুরু হলেও ১৯ তারিখ থেকে শুরু হয় সমস্যা।
কুড়ি তারিখ অর্থাৎ সোমবার দুপুরে মাতাবাড়ি ধন্য মানিক্য মুক্তমঞ্চে ধান নিয়ে আসা কৃষকরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন। কৃষকদের অভিযোগ , সরকারের কাছে ন্যায্য মূল্যের ধান বিক্রি করতে এসে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
প্রতিদিন ধানের বস্তা রাতের অন্ধকারে চুরি হয়ে যাচ্ছে মাতারবাড়ি মুক্ত মঞ্চ থেকে। পাশাপাশি কৃষকদের ধান ওজন পরিমাপ করা এবং যে সকল শ্রমিকরা ধান গাড়িতে লোডিং করবেন সে সকল শ্রমিকদেরকে প্রতি বস্তা হিসেব করে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে।
আর টাকা দেওয়ার কথা যখন বারণ করছেন কৃষকরা তখন কৃষকদের ধান ওজন পরিমাপ এবং গাড়িতে লোডিং করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন শ্রমিকরা।
এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয় । পরবর্তী সময় মাতাবাড়ি কৃষি মহকুমা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক অজয় দেববর্মা কে গোটা বিষয়টি যখন কৃষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় । অজয় দেববর্মা কৃষকদের কথা কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ তুলেন কৃষকরা।
এই আধিকারিক এর বিরুদ্ধে আরো বহু অভিযোগ করেছেন কৃষক মহল। কৃষকরা অভিযোগ করেন আধিকারিক একটা সময় রাগান্বিত হয়ে কৃষকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং ধান ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে দেন কৃষকদের।
আর এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষিপ্ত হয় কৃষক মহল। পরে একটা সময় কৃষকদের বিক্ষোভে পড়ে মাতাবাড়ি কৃষি তত্ত্বাবধায়ক অজয় দেববর্মা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
কৃষক মহল এক হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিভাবে তারা ধান বিক্রি করবে সরকারের কাছে। একদিকে যেমন নেই খাদ্য দপ্তরের তৎপরতা ,নেই মাতারবাড়ি কৃষি দপ্তরের কোন ভূমিকা। আর এই নিয়ে দেখা দিয়েছে কৃষক মহলে হতাশা।
রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ যখন এই দপ্তরটিকে সাজানোর চেষ্টা করছেন রাতদিন। অন্যদিকে দপ্তরের এই ধরনের ভূমিকা রীতিমতো উদয়পুর মহকুমায় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
কোথাও কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে এই একাংশ আধিকারিকরা। সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এখন দেখার বিষয় রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং খাদ্য দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
কৃষকদের এই অভিযোগগুলি পরিপ্রেক্ষিতে কি ভূমিকা নেয় সরকার সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে কৃষক মহল।