নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :
সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ নির্মূল এবং নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয় উদয়পুরের রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে। জাতীয় মহিলা
কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর জীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহের সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা
বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরে বলেন, অল্প বয়সে বিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি নারী ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথে বড় বাধা। তারা
আরও জানান, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই সামাজিক কুফল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এই অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা বিভাগের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, গোমতি জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের এবং জেলা পুলিশ সুপার
অরিন্দম দাস সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে ‘সুরক্ষা ও প্রয়োগ—আইনসম্মত বয়স সমুন্নত রাখা এবং মাঠ পর্যায়ে শিশুদের
অধিকার রক্ষা’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায় আইন প্রয়োগের গুরুত্ব এবং প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
তিনি জানান, বাল্যবিবাহ রোধে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, তার সঠিক প্রয়োগ ও জন সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, আইসিএফএআই বিশ্ববিদ্যালয় (আইন)-এর
সহকারী অধ্যাপক অনিন্দিতা চৌধুরী ‘বিবাহের আইনসম্মত বয়স এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুধাবন’ শীর্ষক আলোচনায় আইনের সীমা, ক্ষমতা এবং আইন ভঙ্গের ফলে সম্ভাব্য
শাস্তির বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, আইন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে সমাজে এই ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সার্বিকভাবে, এই সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেই একটি সচেতন, শিক্ষিত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।