নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :
হাসপাতালের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা খতিয়ে দেখতে এবং পরিকাঠামোগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব গোমতী জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
আজ হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছে স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে ট্রমা কেয়ার সেন্টার, নবনির্মিত সিসিইউ ওয়ার্ড, সিটি স্ক্যান ও রেডিওলজি বিভাগ, ইউএসজি কক্ষ, আইপিএইচএল (ল্যাব) এবং ব্লাড ব্যাংক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সরজমিনে খতিয়ে দেখেন।
সেই সঙ্গে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সিং অফিসারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য সচিব জানান, বিশালগড় ও দক্ষিণ ত্রিপুরার একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় এই হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এখানে দৈনিক গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এই ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা এবং অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের বিশেষ উদ্যোগে হাসপাতাল চত্বরেই আরও একটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন আধুনিক হাসপাতাল ভবন গড়ে তোলা হবে।
আজ তিনি পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত ভবনের সম্ভাব্য নির্মাণ স্থলটি পরিদর্শন করেন এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এর কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে জেলা হাসপাতাল থেকে রেফারের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা, যাতে রোগীরা স্থানীয়ভাবেই শতভাগ উন্নত চিকিৎসা পান।
হাসপাতালের রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে গিয়ে শ্রী গিত্তে উল্লেখ করেন যে, সিটি স্ক্যানে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হলেও আল্ট্রাসোনোগ্রাফির ক্ষেত্রে রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে কাটাতে হচ্ছে।
রোগীদের এই ভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে দুটি শিফটে ইউএসজি পরিষেবা চালু করার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমানে বিকল হয়ে থাকা ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি দ্রুত সচল করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান।
কেন্দ্রীয় সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য সচিব জানান প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ত্রিপুরাকে যে তিনটি অত্যাধুনিক এমআরআই মেশিন দেওয়া হচ্ছে, তার একটি গোমতী জেলা হাসপাতালে স্থাপন করা হবে এবং এর জন্য নির্দিষ্ট স্থানও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
হৃদরোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রস্তুত করা ৬ শয্যাবিশিষ্ট কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটটির পরিষেবা চলতি সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে চালু হয়ে যাবে।
আই পি এইচ ল্যাবরেটরি পরিষেবার ক্ষেত্রে বর্তমানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টি ল্যাব পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে বায়োপসি সহ যে দু-একটি পরীক্ষা এখনও এখানে হয় না । সেগুলিও আগামী দিনে দ্রুত চালুর জোরদার প্রচেষ্টা চলছে।
আগরতলা সিভিল হাসপাতালের আদলে এবার গোমতী জেলা হাসপাতালেও ২-৩ জন চিকিৎসক নিয়ে সান্ধ্যকালীন ওপিডি চালু করার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ও মেডিক্যাল সুপারকে পরামর্শ দিয়েছেন সচিব।
এর ফলে বিকেল বা রাতের দিকে রোগীদের আগরতলায় রেফার করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাবে।
এদিকে, নতুন ভবনে স্থানান্তরিত ট্রমা কেয়ার সেন্টারের কাজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন রোগী জরুরি ও জীবনদায়ী পরিষেবা পাচ্ছেন।
আজকের পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা, গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কমল রিয়াং, গোমতী জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট ডাঃ কাজল কুমার দাস,
পূর্ত দপ্তরের (সড়ক ও ভবন) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপস মারাক সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বাস্তুকার ও হাসপাতালের পদস্থ চিকিৎসকরা।