BREAKING :
(1) ২৬/১১-র চক্রী হাফিজ় সইদের যোগ ছিল পহেলগাঁও হামলাতেও! লশকর প্রধানের বিরুদ্ধে জমা পড়ল চার্জশিট (2) বিকেলে সহকর্মীদের সঙ্গে পার্টি, সন্ধ্যায় মাকে ফোন! তার পরেই দিল্লিতে মৃত্যু বধূর, কী এমন হল তিন ঘণ্টায়? ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য (3) গুরুগ্রামে প্রেমিকার ভাড়াবাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে খুন! বান্ধবীর সঙ্গে পালিয়ে যান নেপালে, এক মাস পরে গ্রেফতার

ভারী বৃষ্টির জেরে ত্রিপুরায় সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি

ভারী বৃষ্টির জেরে ত্রিপুরায় সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি

 ​নিজস্ব প্রতিনিধি, কুমারঘাট :

 

ত্রিপুরার কুমারঘাট মহকুমাজুড়ে দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। দূর্গতদের আশ্রয়ের জন্য প্রশাসনের তরফে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির।

বন্যার ফলে শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে প্রশাসন। ত্রিপুরায় কয়েকদিন ধরে প্রকৃতির রুদ্ররূপে একপ্রকার অচল জনজীবন।

Must Read ত্রিপুরার কৃষকদের জন্য এল বড় সুখবর! কাঁকড়াবন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা ত্রিপুরার কৃষকদের জন্য এল বড় সুখবর! কাঁকড়াবন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা


প্রকৃতির রুদ্ররূপে কার্যত বিপর্যস্ত কুমারঘাট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে  মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে চলা মনু ও দেও নদী। নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার জল।


মহকুমার হালাইমুড়া, ইন্ডাস্ট্রি পাড়া, ইন্দিরা কলোনি, তারাপুর, তরণীনগর সহ একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। মানুষের ড্রয়িং রুম থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বন্যার জল।

এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বন্যা কবলিত লোকেরা। ক্রমশ অবনতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কুমারঘাট মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ১৭টি ত্রাণ শিবির।

এসব শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ২৮৭ পরিবারের মোট ১৫০৯ জন বন্যা দুর্গত মানুষ। কুমারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের শিবিরে আশ্রয় নেওয়া গোপাল মালাকার নামে এক বন্যা কবলিত ব্যাক্তি জানান, বৃষ্টির জেরে বাড়িঘরে জল ঢুকে যাওয়ার ফলে শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদেরকে।

Also Read মনশ্রীকে বাঁচানোর প্রার্থনায় মাতাবাড়ি! এক মানবিক উদ্যোগে আলোড়ন মনশ্রীকে বাঁচানোর প্রার্থনায় মাতাবাড়ি! এক মানবিক উদ্যোগে আলোড়ন

 তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বেরোনোর রাস্তটি পর্যন্ত ডুবেগেছে তাদের। অবশেষে গলাসম জল ডিঙিয়ে শিবিরে পৌঁছতে হয়েছে তাদেরকে।

বন্যার কারনে তাদের গ্রাম থেকে মোট কুড়িটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন শিবিরে। বর্তমানে প্রচন্ড বেগে বন্যার জল বেড়ে চলেছে বলে জানান ঐ ব্যক্তি।


এদিকে হালাইমুড়া এলাকার বাসিন্দা চম্পা দত্ত বলেন, বুধবার বিকেল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে নদীর জল। নদীর আশপাশে থাকা বিভিন্ন বাড়িঘরে ঢুকে যাচ্ছে বন্যার জল। বন্যার জলে ভেসে যাচ্ছে অনেকের গৃহপালিত পশু।

 তিনি বলেন, এলাকায় মোট ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবার রয়েছে। সবার বাড়িতেই ঢুকেগেছে বন্যার জল। একনাগাড়ে বৃষ্টির ফলে বেড়ে চলেছে বন্যার জল। ফলে জলে ডুবে যাচ্ছে যাতায়াতের রাস্তা পর্যন্ত।


এদিকে এলাকার বন্যা কবলিত সবিতা শীল বলেন, বন্যার ফলে জল ঢুকে গেছে এলাকার সবার ঘরেই। বন্যা আক্রান্তরা সবাই এখন আশ্রয় নিচ্ছেন ত্রাণ শিবিরে।

 বন্যার ফলে এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিও ব্যাপকভাবে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য, কয়েক বছর আগেও বন্যা হয়েছিল।

কিন্তু এতো ক্ষয়ক্ষতি এর আগে হয়নি কখনো যা হচ্ছে এবছরের বন্যার শুরুতেই।


 বন্যা প্রসঙ্গে এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ রুদ্রপাল জানান, দুদিনের টানা বর্ষণে ব্যাপকভাবে জল বাড়ছে এলাকায়। প্রায় সবার বাড়িতেই ঢুকেগেছে বন্যার জল।

যাদের বাড়িতে জল ঢুকেছে তারা সবাই এখন শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি। উদ্ভুদ্ধ বন্যা পরিস্থিতিতে স্থানীয় নেতৃত্বদের তরফে খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে বন্যা আক্রান্তদের। পাশাপাশি প্রশাসন থেকেও মাইকিং করা হয়েছে বলে জানালেন ঐ ব্যক্তি।

এদিকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাতের অন্ধকারেই বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরমুখী হয়েছেন অনেক পরিবার। নিজেদের গৃহপালিত পশুপাখীদের সঙ্গে নিয়েই আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখাগেছে অনেককে।


অন্যদিকে গভীর রাত থেকে আরো বাড়তে শুরু করেছে বন্যার জল। জলে থৈথৈ অবস্থা কুমারঘাট কো-অপারেটিভের সামনের জাতীয় সড়ক সংযোগী রাস্তা। জল ঢুকে গেছে বাজারের একাধিক দোকানে। নষ্ট হচ্ছে জিনিসপত্র।

ফটিকরায় গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে কুমারঘাট ফটিকরায় সড়ক এবং ফটিকরায় থানা সংলগ্ন বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে কৈলাশহর কুমারঘাট সড়কটিও চলে গেছে জলের তলায়।

এবিষয়ে ফটিকরার অর্ণব ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি জানান, গভীর রাত থেকেই বাড়তে শুরু করেছে বন্যার জল। তিনি বলেন কমপক্ষেও দেড় হাজার পরিবারের ঘর গ্রাস করেছে করেছে বন্যার জল। সবাই আশ্রয় নিয়েছেন শরণার্থী শিবিরে।

ত্রিপুরায় ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮ সালের পর‌ও বন্যা হয়েছে কিন্তু এবছরের বন্যার পরিস্থিতি অন্যরকম। এলাকার বিভিন্ন গর্ত ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে জল নিষ্কাশনের জায়গা পাচ্ছেনা ফলে ফুলে ফেঁপে উঠছে বন্যার জল।

 

বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে রাতেই বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শনে নামে মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা। নদীর জলস্তর, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর উপর কড়া নজর রেখে চলেছে প্রশাসন।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।


এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে না এলে এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামীদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন।

Admin Desk

Admin Desk

I am senior editor of this News Portal. Me and my team verify all news with trusted sources and publish here.

Home Shorts

Categories

Facebook YouTube Instagram X (Twitter) WhatsApp Telegram