নিজস্ব প্রতিনিধি , সাব্রুম :
১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত সাব্রুম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়—এক সময় যার নাম ছিল গর্বের প্রতীক।
এই বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বহু কৃতি ছাত্র-ছাত্রী আজ ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। অথচ যে প্রতিষ্ঠান তাদের গড়ে তুলেছিল, আজ সেই বিদ্যালয়ই যেন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত।
বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী হল এখন যেন ‘স্মৃতির জাদুঘর’ নয়, বরং ভাঙনের প্রতিচ্ছবি। কোথাও সিলিংয়ের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও বৈদ্যুতিক তার ঝুলছে বিপজ্জনক অবস্থায়।
সঠিক ওয়্যারিং কিংবা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব যেন প্রতিদিনই নতুন আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। শ্রেণিকক্ষগুলোর অনেকগুলোই বহু দশকের পুরনো, আর বিদ্যালয় চত্বরে এখনও নেই একটি পূর্ণাঙ্গ বাউন্ডারি ওয়াল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এখনও ব্যবহার করতে হচ্ছে প্রায় ৪০ বছরের পুরনো টয়লেট। যার ছাউনির অবস্থা এতটাই নড়বড়ে যে, সেটি কখন মাথার উপর ভেঙে পড়বে—সেই আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন সেখানে যেতে হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তার ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকুও কি বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে? এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিমুল বিকাশ দেব স্বীকার করেছেন,
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন, বিশেষ করে সুবর্ণ জয়ন্তী হলের একাধিক স্থানে সিলিং খসে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও ওয়্যারিং ব্যবস্থাও অত্যন্ত পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অভিভাবকদের একাংশের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, “এখানে পড়তে এলে শুধু বই নয়, মাথার উপর থেকে সিলিং পড়ার দিকেও নজর রাখতে হয়!” কারও কথায়, “বিদ্যালয়ের ইতিহাস যত পুরনো, ভবনের সমস্যার তালিকাও যেন তত দীর্ঘ।”
একটি ৭৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি বিদ্যালয় কি শুধুই অতীতের গৌরব নিয়েই বেঁচে থাকবে, নাকি আধুনিক ও নিরাপদ পরিকাঠামো পাবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাব্রুমবাসীর মনে।
শিক্ষার মন্দিরকে নিরাপদ ও যুগোপযোগী করে তুলতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।