প্রতিনিধি কৈলাসহর:-মনু নদীর অববাহিকায় সবুজ বনানীর কোলে আজ থেকে ৭৫ বছর আগে যে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছিল অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে আজ সেই বিদ্যালয় মহীরুহের মতো দাঁড়িয়ে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীদের জীবনে শিক্ষার আলোকবর্তিকা প্রজ্জ্বলিত করেছে।ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় এর প্লাটিনাম জয়ন্তী বর্ষের আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে মহামান্য রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লুর হাত ধরে। বিদ্যালয়ের এই স্বর্ণজ্জ্বোল মুহূর্তে সাক্ষী ছিলেন অনেক গুণীজনেরা।মহামান্য রাজ্যপালের আগমনের সাথে সাথেই জাতীয় সংগীতের সুরে সকলেই দেশমাতৃকার প্রতি অভিবাদন জানিয়েছেন।এরপর মঙ্গল শিখা প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে প্লাটিনাম জয়ন্তী বর্ষের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন এবং ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ত্রিপুরার মহামান্য রাজ্যপাল। উপস্থিত ছিলেন ফটিকরায় বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুধাংশু দাস,সভাধিপতি অমলেন্দু দাস,বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ রঞ্জন পাল।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি নীলকান্ত সিনহা।উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন ফটিকরায় কালচারাল সেল ও নৃত্য পরিবেশন করেন ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় এর ছাত্রীবৃন্দ। ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এই বিদ্যালয়টির প্রারম্ভিক সময়ের কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ করেছেন।এই বিদ্যালয় তৈরীর ক্ষেত্রে যিনি মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রাক্তন বিধায়ক সমাজকর্মী সংস্কৃতিমনস্ক শিক্ষানুরাগী প্রয়াত গোপেশ রঞ্জন দেব। এছাড়াও অসংখ্য শিক্ষানুরাগী গুণীজনদের ঐকান্তিক প্রয়াস ও নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এই ফটিকায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় তার ক্রমোন্নয়নের পথে এগিয়ে চলার শক্তি সঞ্চারিত করেছিল।এই বিদ্যালয় বর্তমানে শিক্ষা, সংস্কৃতি,ক্রীড়া,বিজ্ঞান, প্রযুক্তি,জ্ঞান চর্চা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই জেলা তথা রাজ্যের অন্যান্য বিদ্যালয় কে টেক্কা দিয়ে চলছে। বিদ্যালয়ের ঝুলিতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পুরস্কার প্রাপ্তি হয়েছে।২০১৪ এবং ২০১৯ সালে ত্রিপুরা সরকার কর্তৃক বেস্ট স্কুল অফ ত্রিপুরা এওয়ার্ড ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় পেয়েছে। দুবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক সুজিত কুমার চৌধুরী ও কল্যাণ কুমার পুরকায়স্থ। যেখানে এই বিদ্যালয়টি রয়েছে সেখান থেকেই ফটিকরায় আম্বেদকর কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল তৎকালীন সময়ে। বর্তমানে বিধানসভার বিধায়ক তথা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাসের হাত ধরে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ত্বরান্বিত হচ্ছে। নতুনভাবে শুরু হয়েছে হেরিটেজ বিল্ডিং এর কাজ। যা কিছুদিনের মধ্যেই সমাপ্ত হয়ে এই স্কুলের সৌন্দর্যায়নকে আরো পল্লবিত করবে।মন্ত্রী সুধাংশু দাস তার বক্তব্যে বিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বর্তমান সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থা সাথে যুক্ত হয়ে এই স্কুলের ক্রমোন্নয়ন এবং গুনগত শিক্ষা চর্চার প্রসার সম্পর্কে আলোচনা করেন। মহামান্য রাজ্যপাল বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত বিধায়ক গোপেশ রঞ্জন দেবের স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ফটিক রায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় স্বমহিমায় আজ মহীরূহের মতো দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে অগণিত বিদ্যার্থীদের মধ্যে। কেননা একটি স্কুলই হচ্ছে জীবন মুখরতার বিরলতর চত্বর,যেখানে মানুষ মানুষ হয়ে ওঠে মানুষের মধ্যে মানবিকতা বোধ জেগে ওঠে। মানুষের মধ্যে জীবনচর্চার সমস্ত উপাদান ভরে দেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পর্ব শেষে তারপর আর্ট এক্সিবিশনের আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচন করেন মহামান্য রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু।
দেশ
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-লোক সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে এবং কৈলাসহর পুর পরিষদের সহযোগিতায় আজ থেকে আইটিআই ময়দানে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী রাজ্য ভিত্তিক বাউল উৎসব-২০২৫। আজ সন্ধ্যা ৭টায় এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী টিংকু রায়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন,ত্রিপুরার সংস্কৃতির সঙ্গে বাউল সংগীতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।বাউল গান আমাদের লোকসংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ।এই আয়োজন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করবে।তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে এই উৎসব রাজ্যের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।এই বাউল উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য ত্রিপুরার লোক সংগীতের প্রচার ও প্রসার। দুদিনের এই উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল শিল্পীরা তাঁদের পরিবেশন করবে।রাজ্য ভিত্তিক এই বাউল উৎসব শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক উপভোগের ক্ষেত্রেই নয়,বরং ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মহাশ্মশান ঘাটে বিদ্যুৎ চালিত চুল্লির কাজ শুরু হয়ে যাবে।
প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। ২রা জানুয়ারি। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তেলিয়ামুড়া মহাশ্মশান ঘাটের বৈদ্যুতিক চুল্লির আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর, তেলিয়ামুড়ার উন্নয়নের পালকে যুক্ত হবে নবতম আরেকটি সংযোজন।
উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ১৩ ই জানুয়ারি তেলিয়ামুড়া মহাশ্মশানে ইলেকট্রিক চুল্লি বসানোর জন্য রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের উপস্থিতিতে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর যথারীতি দ্রুত গতিতে কাজ চলার পর বিগত বছরে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহার হাত ধরে উদ্বোধন পর্বও সম্পন্ন হয। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা মাথায় রেখে জেনারেটরের জন্য এতদিন চালু করা যাচ্ছিল না এই ইলেকট্রিক চুল্লি চালিত তেলিয়ামুড়ার মহাশ্মশান।
এবার যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আর কিছুদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হতে চলেছে তেলিয়ামুড়া মহা শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লি। এ বিষয় টি জানান তেলিয়ামুড়া পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার। শ্রী সরকার আরো জানান,মোট ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এই ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হয়ে গেলে তেলিয়ামুড়া বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং তেলিয়ামুড়া মহাশ্মশানের এই আধুনিকীকরণের জন্য রূপক সরকার রাজ্য সরকার সহ বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনার সময়কালে তেলিয়ামুড়াতে বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সেই সময়ে মৃতদেহগুলিকে সৎকারের জন্য আগরতলা শ্মশানে পাঠাতে পৌর পরিষদ কর্তৃপক্ষকে এবং প্রশাসনকে যথেষ্ট ব্যাগ পেতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার থেকেই তৎকালীন পুরো পরিষদ কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের নিকট প্রস্তাব পেশ করেছিল তেলিয়ামুড়াতে চুল্লিচালিত শ্মশান ঘাট নির্মাণের। রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা তেলিয়া মুড়ার বিধায়িকা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করে আসে। এর ফলে ই আজ তেলিয়ামুড়া উন্নয়নের পালকে আরো একটি পালকের যাত্রা শুরু হতে চলেছে। এদিকে, তেলিয়ামুড়া মহাশ্মশান ঘাটে বৈদ্যুতিক চুল্লির পাশাপাশি শ্মশান ঘাটের চারিদিকের আনুসঙ্গিক উন্নয়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২ জানুয়ারি:- ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন গন্ডাছড়া প্রেস ক্লাবের হাতে নববর্ষের উপহার হিসেবে সাব ডিভিশনাল ওয়েলফেয়ার অফিসার তথা ডিসিএম দিলিপ দেববর্মা কেরাম বোর্ড তুলে দেন। এদিন এই উপলক্ষে মহকুমা শাসক অফিসে ওনার কক্ষে মহকুমা সাংবাদিকদের সাথে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ডিসিএম দিলীপ দেববর্মা শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে গন্ডাছড়া প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের হাতে একটি বড় আকারের ক্যারাম বোর্ড তুলে দেন। সেখানে সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামু দেবনাথ, রবি সিং, নারায়ন ত্রিপুরা, সমীর কপালী, চন্দন লাল রায়, অনিমেষ দাস। ট্রাভেল ওয়েলফেয়ার অফিসার দিলীপ দেববর্মা জানান খেলাধুলার মান উন্নয়নে সাব ডিভিশনাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠে এসটি বয়েস হোস্টেল এবং এসটি গার্লস হোস্টেলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন। তাতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। তিনি আরো জানান আগামী কিছুদিনের মধ্যে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করা হবে। খেলাধুলার মান উন্নয়নে প্রেসক্লাবেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন আগামী দিনে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসক্লাব দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য সাব ডিভিশনাল ওয়েলফেয়ার অফিসার তথা ডিসিএম দিলীপ দেববর্মা ভাল মানসিকতা সম্পূর্ণ একজন অফিসার। তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মহকুমা এলাকার বন্যা আক্রান্ত পরিবারের পাশে তৎক্ষণাৎ যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সত্যি তাহা প্রশংসার দাবি রাখে। দিলীপ বাবুর একের পর এক এহেন কাজে খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ।
শান্তির বাজার প্রতিনিধি: মনু ইয়ুথ সোসাইটি প্রতিনিয়ত নানান সামাজিক কর্মসূচী করে যাচ্ছে। এরইমধ্যে এই সোসাইটির উদ্দ্যোগে শান্তির বাজার মহকুমার কচিকাঁচা শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠীত করাহয় শিশুমেলা। অন্যান্যবছরেরন্যায় এইবছরও মনু ইয়ুথ সোসাইটির উদ্দ্যোগে তৈকর্ম স্কুল সংলগ্ন এলাকায় শিশু মেলা ও ফুড ফেষ্টিবেলের আয়োজন করাহয়। দুইদিনব্যাপী চলবে এইমেলা। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যদিয়ে আজকের অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করলেন মন্ত্রী শুক্লাচরন নোয়াতিয়া। মন্ত্রীর পাশপাশি আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তির বাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, শান্তির বাজার পুর পরিষদের চেয়ারম্যান সপ্না বৈদ্য, পুর পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবাশিষ ভৌমিক সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্যরাখতে গিয়ে বক্তারা মনু ইয়ুথ সোসাইটির উদ্দ্যোগে এইধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনকরাতে সকলে সাধুবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যশেষে ক্ষুদে শিশুদেরনিয়ে বিভিন্নপ্রকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করাহয়। মনু ইয়ুথ সোসাইটির উদ্দ্যোগে আয়োজিত আজকের এই মেলায় বগাফা ব্লকের অধীনে বিভিন্ন স্ব সহায়ক দলের সদস্যরা বিভিন্ন প্রকারের পিঠাপুলি নিয়ে নিজেদের ষ্টল সাজিয়ে তুলেন। দুইদিনের এই মেলাকে কেন্দ্রকরে মহকুমার বিভিন্নপ্রান্তথেকে ব্যাপকহারে লোকসমাগমঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে উন্নয়ন হচ্ছে মাতাবাড়ি । বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- রবিবার সকালে উদয়পুর ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে আসেন কেন্দ্রীয় খাদ্য, গণ বন্টন ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন , রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, গোমতী জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা সহ প্রমূখ । এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রথমে মাতার বাড়িতে এসে চলে যান মায়ের মন্দিরে। মন্দিরে গিয়ে মায়ের কাছে পুজো দেন মন্ত্রী । পূজো শেষে মায়ের মন্দিরের চারদিক প্রদক্ষিণ করেন এবং মন্দিরের পাশে থাকা মহাদেব মন্দিরে পুজো দেন তিনি । পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন , মায়ের মন্দিরে এসে দেশ ও রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করেন এবং যে দ্রুত প্রসাদ প্রকল্পের কাজ চলছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে তাতে উন্নয়ন খুবই সুন্দরভাবে হচ্ছে মাতা বাড়িতে। পরে ঘুরে দেখেন মাতার বাড়িতে প্রসাদ প্রকল্পের কাজ। ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী পরে মায়ের মন্দিরে পূজো অর্চনা শেষ করে চন্দ্রপুর কলোনি বিদ্যালয়ের হলঘরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠানে যোগ দেন । সাথে ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক । মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে গোটা উদয়পুরে ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো।
প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। ২৯ডিসেম্বর।তেলিয়ামুড়া মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক টিউমার নামে পরিচিত হাতিটি রেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত।আগরতলা থেকে শিলচরগামী দ্রুতগতি সম্পন্ন রেলের ধাক্কায় মৃতপ্রায় দৈত্যাকৃতির বণ্য দাঁতাল হাতিটি । রেলের ধাক্কায় দৈত্যাকৃতি সেই হাতির কোমর এবং পেছনে পায়ে গুরুত্বর আঘাত লাগে, উক্ত ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে তেলিয়ামুড়া মহকুমা বণ দপ্তরের অধীন লক্ষ্মীপুর এ.ডি.সি ভিলেজের চামপ্লাই রেল রাস্তা সংলগ্ন গভীর বনাঞ্চলে।
খবরে প্রকাশ, আগরতলা থেকে শিলচরগামী দ্রুতগতি সম্পন্ন রেল তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশন হয়ে ধর্মনগর অভিমুখে যাবার পথে তেলিয়ামুড়া মহকুমা বনদপ্তরের অধীন লক্ষ্মীপুর এ.ডি.সি ভিলেজের চামপ্লাই স্থিত রেল পারাপারের সময় একটি বণ্য দাঁতাল হাতিকে সজোড়ে ধাক্কা দেয় ওই যাত্রীবাহী রেল। এতে ওই দৈত্যাকৃতির হাতি তথা লোকমুখে যে কিনা “টিউমার”- নামে পরিচিত সে কোমরে এবং পেছনের পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এবং দীর্ঘক্ষন রাস্তার পাশে পড়ে ছটফট করতে থাকে এই বন্য হাতিটি। এ প্রসঙ্গে খোয়াই জেলা বন আধিকারিক সাংবাদিকদের প্রসঙ্গক্রমে বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এলাকাটি হাতির বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখানে রেলের গতি কম হওয়ার কথা। তবে যেভাবে হাতিটি আহত হয়েছে, রেল এর গতি দ্রুত বেগে ছিল। হাতি আহত হওয়ার খবরটিও বনদপ্তরকে জানানো হয়নি। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তেলিয়ামুড়া মহকুমাতে কুড়িটি উপর হাতি রয়েছে। আহত টিউমার নামে পরিচিত হাতিটি কৃষ্ণপুর ও তার আশপাশ এলাকাতে সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ ছিল। প্রায় রোজই হাতিটি কোন না কোন এলাকাতে বাড়িঘর ভাঙচুর সহ জমির ফসল নষ্ট করে আসছিল। বনদপ্তর হাতির লোকালয়ে প্রবেশ রোধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কোন কিছুতেই হাতির লোকালয়ে প্রবেশ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে আহত হাতি টিকে আজও বনদপ্তরের চিকিৎসকরা চিকিৎসা করে এসেছে। বনদপ্তরের কর্মীরা ও হাতির ধারে কাছেই রয়েছে প্রয়োজনীয় সেবা সুস্রতা দেওয়ার জন্য।
উদয়পুর প্রতিনিধি : রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত সাহা আগরতলা রবীন্দ্র ভবন থেকে ভার্চুয়ালি উদয়পুরে আইতরমা পেট্রোলিয়াম এজেন্সি এর দ্বারুদ্ঘাটন করেন lউদয়পুর ছনবন এলাকায় ভারত সরকার ও এইচ পি সি এল এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই পেট্রোল পাম্প উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যাক্ষ রাম প্রসাদ পাল l এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, বিধায়ক রঞ্জিত দাস, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতি জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, এইচ পি সি এল এর আঞ্চলিক ম্যানেজার রাহুল কুমার সিংহ, টি এস সি সি এফ এর চেয়ারম্যান টুটন দাস l
ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যাক্ষ রাম প্রসাদ পাল বলেন, রাজ্যে এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে পেট্রোল পাম্প চালু হচ্ছে l রাজ্যে এরকম ২০টি পেট্রোল পাম্প গড়ে তোলা হবে l ২ বছর আগে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে রাজ্যে এরকম পেট্রোল পাম্প গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয় l তিনি আরও বলেন, কপারেটিভ হল জনগণের আন্দোলন l কপারেটিভ গ্রামকে উন্নত করে l কিছুদিনের মধ্যে উদয়পুরে আরও একটি আইতরমা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর গোমতী জেলায় গড়ে তোলা হবে l এদিন উদ্বোধন শেষে নিজ হাতে ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল এই পাম্পের প্রথম ক্রেতা বিপ্লব দে -কে পেট্রোল দিয়ে তার শুভ সূচনা করেন।
মহারাজা বীর বিক্রম (এম.বি.বি) কলেজের এন.এস.এস ইউনিটের উদ্যোগে ৭ দিনব্যাপী বিশেষ শিবিরের শুভ সূচনা
মহারাজা বীর বিক্রম কলেজে এন.এস.এস শিবিরের উদ্বোধন মহারাজা বীর বিক্রম (এম.বি.বি) কলেজের এন.এস.এস ইউনিটের উদ্যোগে ৭ দিনব্যাপী বিশেষ শিবিরের শুভ সূচনা হয় আজ। শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। এই শিবিরটি আগামী ৭ দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র দীপক মজুমদার তার বক্তব্যে বলেন, “এন.এস.এস স্বেচ্ছাসেবকরা সমাজের বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” অনুষ্ঠানে চলতি বছরের আগস্ট মাসে রাজ্যে ঘটে যাওয়া বন্যা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ৬ জন এন.এস.এস স্বেচ্ছাসেবককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মানবিক অবদানের জন্য মেয়র দীপক মজুমদার তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এন.এস.এস শিবিরের উদ্দেশ্য শুধু স্বেচ্ছাসেবী কাজ নয়, বরং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা। শিবিরের প্রথম দিনে রক্তদান শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। শিবিরটি আগামী ৭ দিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, বৃক্ষরোপণ, এবং অন্যান্য সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ, এন.এস.এস কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক, এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্থানীয়দের মতে, এই শিবিরটি শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নয়, বরং সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।