চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি 24 জুলাই :-
চুড়াইবাড়ী:উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুড়াইবাড়ী থানার অন্তর্গত বাঘন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত হয়েছে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে দুর্বৃত্তরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার নিয়মিত পাঠদান শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা অফিসে তালা লাগিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন বুধবার খার্চি পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সেই সুযোগেই গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষের জানালার লোহার রড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
ভিতরে ঢুকে তারা একের পর এক আলমারি ও লকারের তালা ভেঙে পুরো অফিস কক্ষ তছনছ করে দেয়। সরকারি কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি অফিসের নথিপত্রও এলোমেলো করে রেখে যাওয়ায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ছয়টা নাগাদ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্টাফ রুমের ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান জানালার লোহার রড ভাঙা এবং অফিস কক্ষের সবকিছু লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কালামকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বিদ্যালয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তিনি দেখতে পান প্রায় সব আলমারি ও লকারের তালা ভাঙা এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত একাধিক মূল্যবান সামগ্রী নিখোঁজ। এরপর চুড়াইবাড়ী থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কালাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে কোনো নাইট গার্ড নেই। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নাইট গার্ড নিয়োগের আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা থাকলে হয়তো এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
এদিকে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, চুরি হওয়া সরকারি সামগ্রী উদ্ধার, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিদ্যালয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় সমগ্র এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—পুলিশের তদন্তে দ্রুত প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হোক, চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে