নিজস্ব প্রতিনিধি, সাব্রুম :
দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার পশ্চিম জলেফা এক নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বুধবার রাত আনুমানিক নয়টা দশ মিনিট নাগাদ ৪২ বর্ষীয় জিআরএস কর্মী বিপ্লব দে
রহস্যজনকভাবে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রাস্তায় আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত সাব্রুম অগ্নিনির্বাপক দপ্তরে খবর দেন।
খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত বিপ্লব দেকে উদ্ধার করে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিপ্লব দে পশ্চিম জলেফা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার সময় তিনি নিজের কন্যা সন্তানকে বাড়ির পাশের একটি অনুষ্ঠানবাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানা গেছে। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এলাকায় জোর গুঞ্জন রয়েছে যে একটি দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন।
তবে এই দাবির সরকারি বা পুলিশি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে সাব্রুম থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহতের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তাতে অন্য কোনো যানবাহন জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে সাব্রুমে বেপরোয়া যান চলাচলের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ম না মেনে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে একই এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় সাব্রুম মহাবিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকার মৃত্যু হয়েছিল।
সম্প্রতি সেই মামলায় আদালত অভিযুক্তকে সাজাও ঘোষণা করেছে। কিন্তু এত কিছুর পরও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর সুশীল সমাজ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।
পাশাপাশি মোটর ভেহিকেলস দপ্তরের কাছে পারমিটবিহীন যাত্রীবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোরও দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের আশা, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।