নিজস্ব প্রতিনিধি , সাব্রুম | ৩০ অক্টোবর :
ত্রিপুরায় অমানবিক নির্যাতন: স্বামীর বাড়িতে ঠাঁই মেলেনি সুমিতার, গর্ভপাত ও গৃহত্যাগের শিকলে বন্দী এক নারীর কান্না
সামাজিক রীতির মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে নিজের সংসার গোছানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সুমিতা বণিক। কিন্তু মাত্র ১ বছর ৪ মাসের মাথায় সেই স্বপ্ন রূপ নিয়েছে এক নির্মম দুঃস্বপ্নে।
সিধাইয়ের মোহনপুরের মেয়ে সুমিতাকে আজ নিজের ঘরেই পরবাসী হতে হয়েছে। স্বামী সুব্রত বণিক ও শাশুড়ি স্বপ্ন দাস বণিকের অমানবিক অত্যাচারে পিঠ আজ দেওয়ালে ঠেকে
গেছে এই গৃহবধূর। পেটে সন্তান আসার অপরাধে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে দুটি অনাগত প্রাণকে নষ্ট করার মতো পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে এই পরিবারের বিরুদ্ধে।
দমদমা গোডাউনটিলার ওয়ার্ড নং ২-এর এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের প্রথম কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও
সুমিতার ওপর নেমে আসে ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এমনকি পুজোর ছুটির বাহানায় তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে শ্বশুরবাড়ির মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সাব্রুমের লোকনাথ আশ্রমে দিন কাটানোর পর যখন তিনি ন্যায়বিচার ও অধিকারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ান,
তখন লোহার গেটের ভেতরে কুলুপ এঁটে বসে থাকে পাষণ্ড শাশুড়ি।একাধিকবার পঞ্চায়েত ও স্থানীয় স্তরে সালিশি বৈঠক বসলেও স্বামী সুব্রত বা শাশুড়ি স্বপ্ন দেবীর মন গলেনি।
উল্টো অনাহারে রেখে এবং বঞ্চনার চরম সীমায় পৌঁছে দিয়ে সুমিতাকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। একজন ‘আশা কর্মী’র ঘরেই যদি
এমন নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।
ভুক্তভোগী আজ খোলা আকাশের নিচে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। স্থানীয় এলাকাবাসী ও নারীদের একটাই দাবি—প্রশাসন যেন অবিলম্বে
এই পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয় এবং সুমিতাকে তার প্রাপ্য সম্মান ও স্বামীর ঘরে পুনর্বাসন নিশ্চিত করে।