নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :
গোমতি জেলার উদয়পুর মহকুমার প্রধান ডাকঘর তথা রাধা কিশোরপুর ডাকঘরে চলছে চরম অব্যবস্থা।
ডাকঘরে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এই ডাকঘরে চলছে দিনের পর দিন সমস্যা অথচ সাধারণ মানুষ অথবা ডাকঘরে আসা বিভিন্ন গ্রাহকরা বারবার অভিযোগ জানিও কোন লাভ হয়নি।
সূত্রে জানা যায়, এই ডাকঘরে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য ৬টি কাউন্টার খোলা রয়েছে। অথচ প্রায় কাউন্টারেই প্রায় দিনেই কর্মচারীদের অনুপস্থিতি দেখা যায় ফলে বাধ্য হয়ে হয়রানি হতে হয় সাধারণ মানুষকে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই প্রধান ডাকঘরে সাধারণ মানুষের জন্য working hour and Tiffin hour কোথাও লেখা না থাকার কারণে ডাকঘরে কর্মরত কর্মীরা মর্জি মাফিক চলছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।
ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও সঠিক পরিষেবা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এদিকে আরো অভিযোগ এ প্রধান ডাকঘরে ৩ নম্বর কাউন্টারটি সাধারণ মানুষ এবং পোস্টাল এজেন্টের জন্য দেওয়া হয়েছে ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষদের হয়রানি হতে হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের অভিমত এই ডাকঘরের অধীন পোস্টাল এজেন্টদের জন্য একটি আলাদা কাউন্টার করা হোক যাতে করে সাধারণ মানুষের সমস্যা পরতে না হয়। তাছাড়া এই ডাকঘরের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ ডাকঘরের ভিতরে সাধারণ মানুষের জন্য কোন বসার জায়গা নেই।
বসার জায়গা গুলি ডাকঘরে কর্মরত পোস্টাল এজেন্টরাই দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ। ফলে অসুস্থ বা সিনিয়র সিটিজেন ডাকঘরে পরিষেবা নিতে গেলে বসার স্থানের অভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
এদিকে অন্য আরেক টি সূত্রে জানা যায় প্রধান ডাকঘরে যিনি ডেপুটি পোস্টমাস্টার রয়েছেন তিনি সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাছাড়া প্রধান ডাকঘরে যেসব সরকারি কর্মীরা রয়েছেন তাদের কাজের প্রতি অনিহা দেখা দিচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের অভিমত।
তাছাড়া আরও অভিযোগ এই প্রধান ডাকঘরে বিকাল তিনটার পর প্রায় কর্মচারী শূন্য হয়ে পড়ে বলে সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন।
সূত্রে জানা যায় এই ডাকঘরের বেশিরভাগ কর্মচারী আগরতলা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন ফলে তারা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে বাড়িতে যাওয়া জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
এর ফলে কোন সাধারণ মানুষ কাউন্টারে তিনটার পরে গেলে বিরক্তি প্রকাশ করেন কাউন্টারের বসা কর্মীরা।
দাবি উঠছে গোমতী জেলার জেলাশাসক যেন অতিসত্বর এই অভিযোগগুলি তদন্ত করে প্রধান ডাকঘরে থাকা বর্তমান কর্মচারীদের অন্যত্র বদলি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।