ধর্মনগর প্রতিনিধি , জয়ন্ত পাল :-
শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ কমলপুর মহকুমার দুর্গা চৌমুহনী এলাকায় পুলিশের নাকা চেকিং চলাকালীন একটি সন্দেহভাজন বোলেরো গাড়ি থেকে
নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কমলপুর ট্রাফিক ইনচার্জ পঙ্কজ দেবনাথ এবং
কমলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন আচার্যের যৌথ নেতৃত্বে দুর্গা চৌমুহনী এলাকায় নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় ধর্মনগর থেকে আগরতলাগামী
একটি প্রাইভেট বোলেরো গাড়ি, যার নম্বর TR 01 CD 0692, সন্দেহ হওয়ায় সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় গাড়ি থেকে নগদ ৪০ লক্ষ
টাকা উদ্ধার হয়। ঘটনায় আটক পাঁচজন হলেন—মুক্তার হোসেন, পিতা চাঁদ মিয়া, বাড়ি তেলিয়ামুড়া; জসিম মিয়া, পিতা হাবিল মিয়া, বাড়ি মেলাঘর; কবির মিয়া,
পিতা জলিল মিয়া, বাড়ি আগরতলার শচীন্দ্রলাল এলাকায়; লিটন মিয়া, পিতা নূর মোহাম্মদ মিয়া, বাড়ি খোয়াই এবং রবীন্দ্র দাস, পিতা গৌড় দাস, বাড়ি তেলিয়ামুড়া।
আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা
সুপারি ব্যবসার লেনদেনের টাকা। তবে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বক্তব্যে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে বলে জানা যায়।
পাঁচজনের বাড়ি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হওয়ায় এবং টাকার উৎস সম্পর্কে তাদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৪০ লক্ষ টাকা মেশিনের মাধ্যমে গণনা করা হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কমলপুর মহকুমার ডিসিএম অদিতি দাস, কমলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক
সৌরভ দাস, কমলপুর থানার পুলিশ অফিসার কপিল পাল-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও সাব-ইন্সপেক্টররা। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের উৎস কোথায়,
কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এই টাকা এসেছে এবং এর পেছনে কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই টাকার প্রকৃত উৎস এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ৪০ লক্ষ টাকা এবং আটক পাঁচজনকে আগামীকাল আদালতে সোপর্দ করা হবে।