চুরাইবাড়ি, ১৫ এপ্রিল:
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই বড়সড় সাফল্য পেল অসম পুলিশের শ্রীভূমি জেলা শাখা।
অসম–ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে অভিযান চালিয়ে তরমুজ বোঝাই একটি লরি থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া এই নিষিদ্ধ কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে চুরাইবাড়ি চেকপোস্টে ৮ নম্বর আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কে নিয়মিত নাকা তল্লাশি চলাকালীন AS26AC-1102 নম্বরের একটি ছয় চাকার লরি সন্দেহজনকভাবে সেখানে পৌঁছায়।
আগে থেকেই গোপন সূত্রে খবর থাকায় পুলিশ লরিটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়।তল্লাশির সময় সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লরিতে উপরে তরমুজ বোঝাই থাকলেও তার নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল ৯৫টি কার্টুন ভর্তি নিষিদ্ধ কফ সিরাপ ‘এস্কাফ’।
প্রতিটি কার্টুনে ১৫০টি করে বোতল থাকায় মোট উদ্ধার হয়েছে ১৪,২৫০ বোতল নেশাজাতীয় কফ সিরাপ।
এই ঘটনায় লরির চালক নজরুল ইসলাম এবং সহচালক মুসলেম মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালকের বাড়ি অসমের বরপেটা জেলায় এবং সহচালকের বাড়ি ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার মেলাঘর এলাকায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রীভূমি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা জানান,“রুটিন তল্লাশির সময়ই এই বড়সড় সাফল্য আসে। উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এগুলি গুয়াহাটি থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল।”
তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি লরির মালিককেও সমন পাঠানো হবে এবং কোথা থেকে এই মাদকদ্রব্য লোড করা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃতদের আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি জেলা আদালতে পেশ করা হবে।
অসম পুলিশের এই সফল অভিযানে আবারও প্রমাণ মিলল যে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার রুখতে তারা কতটা সক্রিয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে
এবং কোনওভাবেই নেশাজাতীয় সামগ্রী রাজ্যের ভিতরে বা বাইরে পাচার হতে দেওয়া হবে না।