নিজস্ব প্রতিনিধি ,মেলাঘর | ১ নভেম্বর :
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চুরির উপদ্রব নতুন কিছু নয়। তবে দীর্ঘ দেড়-দুই যুগ পর এমন এক ঘটনার সাক্ষী থাকল সিপাহিজলা জেলার মেলাঘর।
রাস্তার সঙ্গে লাগানো গোয়ালঘর থেকে রাতের অন্ধকারে এক গাভী ও বাছুর চুরির অভিযোগ উঠল। এই আকস্মিক চুরির ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গরুর মালিকের।
ঘটনাটি ঘটেছে মেলাঘর কলমখেত পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিক মনির হোসেন একজন সাধারণ কৃষক। গবাদি পশু পালন করেই তাঁর সংসার চলে।
জানা গেছে, গত ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এই এলাকায় কখনো গরু চুরির মতো ঘটনা ঘটেনি। অতীতে কিছু চুরির ঘটনা ঘটলেও গোয়াল থেকে গরু চুরি হয়নি।
আর সেই বিশ্বাসের কারণেই রাস্তার পাশেই অবস্থিত গোয়ালঘরে কোনো অতিরিক্ত ব্যারিকেট বা চাবি দেননি মালিক।
কিন্তু গতকাল গভীর রাতে—প্রায় আনুমানিক রাত দুটোর দিকে—ঘুম ভেঙে গোয়ালে গিয়ে মনির বাবু দেখেন তাঁর গোয়ালঘর সম্পূর্ণ শূন্য।
গাভী ও তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা বাজারমূল্যের বাছুরটি উধাও। এরপর রাত থেকেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও গরুর কোনো সন্ধান মেলেনি
গরুর মালিকের অভিযোগ, দীর্ঘ দেড়-দুই দশকে এই এলাকায় গরু চুরির নজির নেই।
তবে সম্প্রতি ওই এলাকায় নেশার কারবার ও কিছু বাড়িতে নেশার ডেরা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে নেশাকারবারিদের যাতায়াত লেগেই থাকে।
মালিক মনির হোসেনের স্পষ্ট অভিযোগ, এই নেশাকারবারিরাই গভীর রাতে সুযোগ বুঝে এই চুরির কাণ্ড ঘটিয়েছে।
গরু দুটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই কৃষক পরিবারটি।
ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ, পুলিশ প্রশাসন যদি রাতের বেলা এলাকায় ঘনঘন টহলদারি বা পেট্রোলিং বাড়াত, তবে চোরেরা এমন স্পর্ধা দেখাতে পারত না।
সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি, অবিলম্বে পুলিশ যেন এই ঘটনার তদন্ত করে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করে এবং এলাকার নেশার ডেরাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।