নিজস্ব প্রতিনিধি, কুমারঘাট | ৩১ অক্টোবর :
গ্রাহকদের অজান্তেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পোস্ট অফিস। বছরের পর বছর ধরে যেখানে সঞ্চয়ের টাকা জমিয়েছেন গ্রাহকরা, সেই পরিষেবা কেন্দ্রই এবার অন্যত্র সরানোর উদ্যোগ।
আর এই ঘটনাকে ঘিরেই শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল কুমারঘাট রেল স্টেশন চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায়।
অভিযোগ, গ্রাহকদের আগাম কোনকিছু না জানিয়েই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কুমারঘাট পোস্ট অফিসের এই শাখা। পোস্ট অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম গাড়িতে তুলে অন্যত্র নিয়ে
যাওয়ার সময় বাধা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ডাক বিভাগের গাড়ি-সহ ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টারকে আটকে রেখে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
গ্রাহকদের বক্তব্য, এই পোস্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা জমিয়ে আসছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের কিছু না জানিয়েই অফিস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, কুমারঘাটের মূল পোস্ট অফিসে যাতায়াত করতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ হবে। বর্তমান স্থানে পোস্ট অফিস থাকায় এলাকার বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
তাই কোনওভাবেই এই শাখা সরিয়ে নেওয়া মেনে নিতে রাজি নন তাঁরা অন্যদিকে, পোস্ট অফিস সরানোর কারণ ব্যাখ্যা করে পাবিয়াছড়া পোস্ট অফিসের ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার প্রতীক ভৌমিক
জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই দুটি পোস্ট অফিস রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি শাখা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই পোস্ট অফিসের সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে এসেছিলেন তিনি। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে মাঝপথেই থমকে যায় সেই প্রক্রিয়া।
এদিন গ্রাহকদের চাপের মুখে অবশেষে সরঞ্জাম ভর্তি গাড়ি রেখেই ফিরে যেতে হয় অফিস কর্তৃপক্ষকে।
একদিকে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পরিষেবা ও যাতায়াতের সুবিধার প্রশ্ন, অন্যদিকে ডাক বিভাগের কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কুমারঘাট রেল স্টেশন
চৌমুহনী সংলগ্ন পোস্ট অফিসের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। শাখাটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।