নিজস্ব প্রতিনিধি , বিলোনিয়া :
কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড দক্ষিণ ত্রিপুরা। বহু বাড়িঘর তছনছ ভেঙে পড়েছে গাছপালা।
বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে রাস্তার ওপর। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বিদ্যুৎ দপ্তরকে। বিভিন্ন গ্রামীন এলাকায় এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , বিলোনিয়া আইসি নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাড়ি ঘরে এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবার স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এলাকায় দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সমস্যা।
পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং বহুবাড়ি ঘরে মোবাইল ফোন পর্যন্ত চার্জ করতে না পারার কারণে দূরবর্তী নিকট আত্মীয়দের সাথেও যোগাযোগ করতে পারছে না গ্রামবাসীরা।
অন্যদিকে বহু মানুষ তাদের ভালবাসার মানুষের সাথে যোগাযোগ না করতে পেরে এক প্রকার সম্পর্ক ভেঙে বসতে চলেছে। গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ না আসার কারণে আইসি নগর গ্রামে দেখা দিয়েছে এক চরম উৎকণ্ঠা। তার ফলে এলাকার মানুষ অন্ধকারে ডুবে আছে।
বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে এখনো পর্যন্ত এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়নি বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ তুলছে।
আরো জানা যায় , বিলোনিয়া, বল্লামুখা, বনকর ,ড্রপগেট ও বড়টিলা এলাকায় এখনো পর্যন্ত নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা।
যার ফলে গ্রামের একটি বড় অংশ যে সকল মানুষ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রাখছে তাদের প্রিয় মানুষের সাথে এবং দেশ-বিদেশের খবর রাখার যে প্রবণতা থাকার কথা সেই প্রবণতাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে এলাকায়।
গ্রামবাসীদের দাবি খুব তাড়াতাড়ি যেন রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করে তুলে তার আবেদন রাখেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় এক গৃহবধূ লিপি শীল আমাদের সংবাদ প্রতিনিধিকে জানান , যেভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা গত পাঁচ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে তার ফলে তাদের পরিবারে এক বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে।
নেই পানীয় জল, ঘরে নেই রান্না করার এলপিজি গ্যাস। যার ফলে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে রান্না পর্যন্ত করতে পারছে না।
উপোস থাকছে গোটা পরিবার। গৃহবধূ লিপি দাবি করেন যদি আজকের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার স্বাভাবিক না হয় তাহলে রাত থেকে কোনভাবেই মোবাইল ফোনে তাদের প্রিয় মানুষের সাথে যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ দপ্তর যেন আজকে রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করে তোলে। এখন দেখার বিদ্যুৎ দপ্তর কি ভূমিকা গ্রহণ করে বিলোনিয়া আই সি নগরের জন্য !