নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া :
বিলোনিয়া ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের জোরদার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা কলেজ চত্বর।
ফলাফল প্রকাশ ও ফরম ফিলাপ সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর সমস্যাকে কেন্দ্র করে আজ শত শত ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, বহু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরও ফলাফলে অযৌক্তিকভাবে ব্যাক দেখানো হচ্ছে। আবার অনেকের উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ফলাফলে এবসেন্ট প্রদর্শিত হচ্ছে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বারবার কারিগরি ত্রুটির কারণেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের।
এছাড়াও দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের বহু শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফরম ফিলাপ করতে পারছেন না বলেও জানা যায়। যার ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে কলেজ পড়ুয়াদের। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, বারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এই সমস্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর পক্ষ থেকে আজ কলেজে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন আন্দোলনকারীরা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভাইস চ্যান্সেলর শ্যামল দাস-এর কুশপুতলিকা দাহ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর মনোরঞ্জন দাস সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অধ্যক্ষ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া উল্লেখ করে একটি মেমোরেন্ডাম কলেজ অধ্যক্ষের মাধ্যমে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে জমা দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।
তাদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীন মনোভাবের কারণেই প্রতিনিয়ত সাধারণ কলেজ পড়ুয়াদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি এই সমস্ত সমস্যার কোনো সুরাহা না হয়, তাহলে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথা এবিভিপি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে প্রয়োজনে রাজ্যজুড়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধ্যক্ষ ডক্টর মনোরঞ্জন দাস বলেন, ছাত্রছাত্রীদের উত্থাপিত দাবিগুলি তিনি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবেন এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানাবেন।