নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :
২০২৪ সালে আগস্ট মাসে এক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল উদয়পুর শহর এলাকা। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুর নাগরিকরা।
পরবর্তী সময় সরকার এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে জল নিষ্কাশনের জন্য বড় আকারের ড্রেন তৈরি করা হবে।
মোতাবেক সরকার জায়গা নির্ধারণ করে। এর ফলে উঠিয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন বাজার ও বাড়িঘর। ইতিমধ্যেই ড্রেনের কাজ চলছে। কিন্তু তার মাঝে দেখা দিয়েছে এক বড় প্রশ্ন ?
প্রথম দিকে ড্রেনের কাজ সব ঠিকঠাক থাকলেও কিন্তু এখন দেখা দিয়েছে এক অন্য চিত্র। অমর সাগর দক্ষিণ পাড় স্থিত শীতলা মন্দিরের পাশে থাকা বটগাছের পাশ দিয়ে তিন বাঁকা করে জল নিষ্কাশনের ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে।
তার মধ্যে ড্রেনটিকে সম্পূর্ণভাবে সরু করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে প্রথমদিকে যখন ড্রেন তৈরীর কাজে ইঞ্জিনিয়াররা একটি প্ল্যানিং করেছিলেন সেই প্ল্যানিং অনুযায়ী কেন কাজ করা হয়নি।
একটি বটগাছ কে বাঁচানোর জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে যদি শীতলা মন্দির সংলগ্ন এই বটগাছ কে বাঁচানো যায় তাহলে সুভাষ সেতু ইয়ুথ ক্লাব সংলগ্ন জাতীয় সড়কের পাশে রাস্তা নির্মাণ করার জন্য তখন কেন বটগাছ কাটা হয়েছিল আজ থেকে গত কয়েক মাস আগে।
অন্যদিকে আরও প্রশ্ন উঠছে, মাতারবাড়ি বাইপাস সংলগ্ন জাতীয় সড়কের পাশে রাস্তা বড় করতে গিয়ে কেন বটগাছ কে বাঁচানো হয়নি।
শহরবাসীকে বন্যার জল থেকে বাঁচানোর জন্য যখন বড় ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে তখন এক অজুহাত সামনে দাঁড় করিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা তিন বাঁকা করে যে ড্রেন নির্মাণ করে চলেছে সে ড্রেন আগামী দিনে কতটুকু জল নিষ্কাশন করতে পারবে তা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে ! কেন জেলা শাসক এই বিষয়ে নজর দিচ্ছে না সেই নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতলচন্দ্র মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তাহলে যে প্রথম দিকে সোজা আকারে ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল এখন কেন তিন বাঁকা করে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে তার কোন সুস্পষ্ট উত্তর নেই ইঞ্জিনিয়ারের কাছে।
শুধু অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে একটি বট গাছ। যদি বটগাছ টিকে এই উন্নয়নের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে জল নিষ্কাশনের পাকা কাভার ড্রেনের পাশ দুই দিক থেকে অনেকটা বড় হবে এর ফলে সুবিধা হবে জল নিষ্কাশনের।
এখন দেখার বিষয় সাধারণ একটি বটগাছকে অজুহাত করে কেন এই ইঞ্জিনিয়াররা এই ধরনের জোড়া তালি কাজ করে চলেছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
একটি সাধারণ বটগাছকে অজুহাত করে ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনের এই 'জোড়াতালি'র খামখেয়ালি কাজ আগামী দিনে উদয়পুর শহরের জন্য নতুন কোনো বিপর্যয় ডেকে আনে কি না, সেটাই এখন দেখার।
প্রশাসন কি জনস্বার্থে এই নকশা সংশোধন করবে, নাকি গাছ বাঁচাতে গিয়ে শহরকে ডুবিয়ে দেওয়ার এই আত্মঘাতী জেদ বজায় রাখবে?
সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে আপামর উদয়পুরবাসী।প্রশাসন কি তার সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারবে ? সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে জনগণ ।