নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সারা দেশে মনরেগার পরিবর্তে কার্যকর নতুন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকা করা হয়েছে এবং কাজের মেয়াদ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিনে উন্নীত করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরা রাজ্যেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে জেলা ভিত্তিক জনসম্মেলন ও লঞ্চিং প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার গোমতী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উদয়পুরের রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে ‘জেলা ভিত্তিক জন সম্মেলন-কাম-লঞ্চিং প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে “বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)” প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা বিধানসভার স্পিকার রামপদ জমাতিয়া। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে
উপস্থিত ছিলেন টিটিএডিসির শিক্ষা দপ্তরের ইএম চন্দ্র কুমার জমাতিয়া, কাকরাবন-শালগড়া কেন্দ্রের বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, করবুক কেন্দ্রের বিধায়ক সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা,
অম্পি কেন্দ্রের বিধায়ক পাঠান লাল জমাতিয়া, গোমতী জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি সুজন সেন,
ত্রিপুরা সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ড. অনিমেষ দেববর্মা, গোমতী জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাষ আচার্য্য, অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জিত দেববর্মা সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার।
এদিন ‘ভিবি-জি রাম জি আইন, ২০২৫’-এর জাতীয় উদ্বোধন উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের
তিরুপতি জেলার ওবুলাভারিপল্লে মণ্ডলের মুক্কাভারিপল্লে গ্রামে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানের সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারও দেখানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু।
রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে উপস্থিত অতিথি ও সাধারণ মানুষ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। ভিডিও কনফারেন্স শেষে রামপদ জমাতিয়া জানান, এই আইন কার্যকর করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার প্রশাসনিক,
আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, টেকসই সম্পদ গঠনে গতি আনবে এবং নারী ক্ষমতায়নকে আরও শক্তিশালী করবে।
পাশাপাশি আত্মনির্ভর ও উন্নত গ্রামীণ ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি দেশের নাগরিকদের উন্নত, সক্ষম ও আত্মনির্ভর গ্রাম গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। সার্বিকভাবে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ গোমতী জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।