নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :
চারদিকে শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন। এই ধরনের দুটি শব্দ প্রায়শই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনা যাচ্ছে বিভিন্ন দলীয় জনসভা ও সরকারি অনুষ্ঠানে ।
কিন্তু বক্তব্যের সাথে বাস্তবের কোন ধরনের মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । যদি উন্নয়ন সত্যি অক্ষরে হয়ে থাকে , তাহলে কেন সড়কের এই ধরনের বিপদজনক অবস্থা হবে।
আমাদের প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে মানুষের যাতায়াতের দুঃখজনক একটি ছবি।
বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনগর থেকে পিত্রা যাওয়ার একমাত্র রাস্তা বর্তমানে বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিদিন ঐ সড়কে নিত্য যাতায়াতকারী অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এবং স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
কাঁদা যুক্ত এই সড়ক বর্তমানে এক বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে নিত্য যাতায়াত কারী অটোরিক্সা যাত্রীরা ।
খারাপ রাস্তার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার এক অটোচালক আমাদের সংবাদ প্রতিনিধিকে জানান , দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের রাস্তার সমস্যা ভুগছে সাধারণ জনগণ এবং অটো চালকরা।
প্রায় সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে গাড়ি। দুর্দশা সড়কটি কেন স্থানীয় প্রশাসন অথবা পঞ্চায়েত মেরামত করার উদ্যোগ নিচ্ছে না ?
তা বুঝে উঠতে পারছে না কেউ । রাস্তা খারাপ থাকার কারণে গত দুই বছর আগেও এই সড়কেই মৃত্যু হয়েছে দুজনের।
এবার প্রশ্ন উঠছে যখন ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লোকসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন ভারতে সমস্ত রাস্তা তৈরি হচ্ছে স্পেস টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে।
তাহলে ত্রিপুরার বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনগর থেকে পিত্রা যাওয়ার রাস্তাটি তাহলে কেন এত বড় সমস্যায় ভুগছে বছরের পর বছর ?
কি কারনে তার সমস্যা সমাধান করছে না রাজ্য সরকার। নাকি মহাকাশ থেকে স্পেস টেকনোলজির স্যাটেলাইট ক্যামেরা ধরতে পারছে না বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের এই রাস্তাটিকে ?
ত্রিপুরার জনগণ ২০১৮ সালে তৎকালীন বামের স্বর্ণযুগকে বাদ দিয়ে ত্রিপুরায় এনেছে হীরাযুগ। সেখানে তো হীরার মতো চকচকে হওয়ার কথা ছিল গ্রামীণ সড়কটি।
তাহলে কেন কয়লার মতো রাস্তা বর্তমানে তৈরি হয়েছে এই এলাকায় ? প্রশ্ন তুলছে বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের জনগণ ।
নিম্নমানের রাস্তা তৈরীর পেছনে কত টাকা কাঠমানি যাচ্ছে নেতাদের পকেটে ? বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তুলছে !
এখন দেখার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি থেকে নেমে বাগমা নেতারা কাঁদা যুক্ত রাস্তায় নেমে পরিদর্শন করে কিনা ?
সে দিকে তাকিয়ে আছে প্রতিদিন এই রাস্তা ধরে চলা নিত্যযাত্রীরা ।