চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি
সামাজিক মাধ্যমে মালাকার সমাজকে নিয়ে কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর ত্রিপুরার এবং উনকোটি জেলা জুড়ে।
অভিযুক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কদমতলা থানাসহ মোট সাতটি থানায় এফআইআর দায়ের করেছে ‘উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল মালাকার সমাজ’।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীভাষ দেব (৩৩) নামের এক যুবক, যিনি বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরে অবস্থান করছেন, সামাজিক মাধ্যম Facebook-এ লাইভে এসে মালাকার সমাজ ও গোটা জাতিকে উদ্দেশ্য করে একাধিক কুরুচিকর ও কুমন্তব্য করেন।
অভিযুক্তের বাড়ি কদমতলা থানার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে। তার পিতা মৃত বিপুল দেব।
এই ঘটনায় গভীরভাবে আহত ও ক্ষুব্ধ হন মালাকার সমাজের সদস্যরা। উত্তরাঞ্চল ও উনকোটি দক্ষিণাঞ্চল মালাকার সমাজের সভাপতি পরেন্দ্র মালাকার জানান, “বর্তমান সমাজ যখন জাতিভেদ প্রথা থেকে বেরিয়ে সমতার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভেদ ও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
প্রথমে কদমতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল মালাকার সমাজ যৌথভাবে উত্তর ত্রিপুরা ও উনকোটি জেলার বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে কদমতলা থানার অধীন সরসপুর গ্রামের শৈলেন মালাকারের বাড়িতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন দুই জেলার মালাকার সমাজের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদল কদমতলা থানায় গিয়ে সেকেন্ড অফিসার আর এম সাংমার সঙ্গে বৈঠক করেন।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করে বিষয়টি ব্যাঙ্গালোরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে কদমতলায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেয় পুলিশ প্রশাসন।
এই আশ্বাস পেয়ে কিছুটা সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণাঞ্চল মালাকার সমাজের ঊনকোটি জেলার সভাপতি পরেন্দ্র মালাকার, সম্পাদক কৈলাস মালাকার, উত্তরাঞ্চল মালাকার সমাজের সম্পাদক চিত্র মালাকারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যরা।
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মালাকার সমাজের নেতারা জানান, “পুলিশ আমাদের যে আশ্বাস দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই। যদি অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট মহল। একই সঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছে সাধারণ মানুষ।