নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া :
"বিলোনিয়ার মাটি থেকে গ্লাসগোর মঞ্চে ।একটা সময় সাইকেলের চাকা সারাতেন বাবা। আর আজ সেই ঘরের মেয়েই গোটা দেশের গর্বের চাকা ঘুরিয়ে দিল! কমনওয়েলথের মঞ্চে ইতিহাস
লিখল ত্রিপুরার কন্যা। বিলোনিয়ার অস্মিতা দে। জুডোয় ভারতের প্রথম সোনা এনে দেওয়া নাম। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগ। ফাইনালে সামনে কানাডার
হেইডি কুয়াচ। এক সময় পিছিয়ে পড়েও হার মানেননি ২৩ বছরের এই যোদ্ধা। ধৈর্য আর লড়াইকে হাতিয়ার করে ম্যাচ টেনে নিয়ে গেলেন ‘গোল্ডেন স্কোর’-এ। আর তারপর?
একটা নির্ণায়ক থ্রো! আর তাতেই রচিত হল ইতিহাস। ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ জুডো সোনা এখন ত্রিপুরার ঘরে। খবর পৌঁছতেই খুশির জোয়ার। শুধু রাজ্যে নয়, বিলোনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম
দক্ষিণ সোনাইছড়িতেও আজ উৎসবের আবহ। স্বর্ণকন্যা বাড়িতে না থাকলেও, মা মুন্না পাটারি দে আর ভাই দেবব্রত দে ভাসছেন শুভেচ্ছার বন্যায়।
বিলোনিয়া মির্জাপুরের ভাড়া বাড়িতেই এখন গর্বের ঢেউ। "আমার মেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ওর বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। উনিই ছিলেন ওর আসল অনুপ্রেরণা।
সংগ্রামের গল্পটা সহজ ছিল না।
২০০৩ সালের ২২ মার্চ বিলোনিয়ায় জন্ম। বাবা অর্জুন দে ছিলেন সাইকেল মিস্ত্রি। তিন ভাইবোনের সংসার। জুডো শেখার জন্য এক সময় বাড়ির জায়গাও বিক্রি করতে হয়েছে। সাহায্যের হাত
. বাড়িয়ে দেয়নি অনেকে। কিন্তু স্বপ্ন বিক্রি হয়নি।প্রথম পাঠ বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠে, কোচ বীণা দেবনাথের কাছে। তারপর ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুল, মানিক লাল দেবের তত্ত্বাবধান। ২০১৮ সালে SAI
ভোপাল। সেখান থেকে জাতীয় দল, TOPS স্কিম। ধাপে ধাপে নিজেকে গড়েছেন।
২০২২ সালে থাইল্যান্ডে প্রথম ত্রিপুরার জুডোকা হিসেবে আন্তর্জাতিক পদক।
২০২৩-এ ম্যাকাওতে সোনা, কুয়েতে রুপো। ২০২৫-এ মরক্কোতে সিনিয়র স্তরে প্রথম সোনা। আর এবার ২০২৬-এ গ্লাসগোয় কমনওয়েলথের সোনা। কোয়ার্টারে স্কটল্যান্ড, সেমিতে স্বাগতিক,
ফাইনালে কানাডা - সবাইকে মাদুরে ফেলে দিয়েছেন অস্মিতা। "আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু বোন হার মানেনি। এখন ওর লক্ষ্য অলিম্পিক।"
বিলোনিয়ার একটি ছোট্ট সাইকেলের দোকান থেকে কমনওয়েলথের সর্বোচ্চ মঞ্চ। অস্মিতা দে শুধু একটি পদক জেতেননি। তিনি জিতেছেন হাজারো মেয়ের স্বপ্ন।
প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে মাটির গন্ধ গায়ে মেখেও সোনা ছোঁয়া যায়। ত্রিপুরার মেয়ে এখন
গোটা ভারতের গর্ব। পরবর্তী লক্ষ্য? অলিম্পিকের মঞ্চ। সেই লড়াইয়ের জন্য রইল অগ্রিম শুভেচ্ছা।