নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর | ৮ সেপ্টেম্বর :
উদয়পুরের জগন্নাথ দীঘিতে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো দশম শ্রেণির এক ছাত্রের। মৃত ছাত্রের নাম দেবজ্যোতি দে (১৬)।
পোল্ট্রি রোড এলাকার বাসিন্দা দেবজ্যোতি উদয়পুরের ডি.বি.এস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। রবিবার দুপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
তবে জলে ডুবে ছাত্রের মৃত্যুর পর জগন্নাথ দীঘির বর্তমান জলস্তর ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দীঘির পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বর্তমানে দীঘিতে যে পরিমাণ জল রয়েছে, তা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দা বক্তব্য অনুযায়ী আগে দীঘির জল একটি নির্দিষ্ট স্তরে থাকত এবং অতিরিক্ত জল স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
কিন্তু বর্তমানে সময়মতো জল নিষ্কাশন না হওয়ায় জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গেছে।
তার দাবি, বর্তমান জলস্তর থেকে যদি প্রায় এক মিটার জল
কমিয়ে আনা যায়, তাহলে দীঘির নাব্যতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সাধারণ মানুষের স্নানের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কমবে।
বিশেষ করে ঘাটের আশপাশে কতটা গভীরতা রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝার ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিত জলস্তর পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলেও মত স্থানীয়দের।
তবে জলস্তর কমানোই দুর্ঘটনা রোধের একমাত্র উপায় নয়। সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের গভীর জলে না নামা, ঘাটে সতর্কতামূলক বোর্ড বসানো,
বিপজ্জনক অংশ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অংশে স্নানের ব্যবস্থা করার মতো পদক্ষেপও জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
একদিকে মেধাবী এক ছাত্রের অকাল মৃত্যু, অন্যদিকে জগন্নাথ দীঘির জলস্তর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ওঠা প্রশ্ন—দুই বিষয়কে ঘিরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকায়।
ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য দীঘির জলস্তর, জল নিষ্কাশন
ব্যবস্থা এবং স্নানঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।