নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর | ৮ অক্টোবর :
যক্ষ্মামুক্ত ভারত অভিযানকে গ্রাম স্তরে আরও জোরদার করতে 'যোশ' (জয়েন্ট স্কোয়াড ফর হেলথ)-এর জাতীয় সূচনা উপলক্ষে আজ গোমতী জেলা পরিষদের
সম্মেলন কক্ষে জেলাভিত্তিক এক বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মূলত যুবসমাজকে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে
যক্ষ্মা সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক প্রতিরোধমূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
জাতীয় স্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'খুশি অবতার' নামক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট সহ নতুন তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ উদ্যোগ উন্মোচনের সাথে
সঙ্গতি রেখে জেলাতেও মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিস্তৃত ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই কর্মসূচিতে ব্লক পর্যায়ের 'যক্ষ্মামুক্ত ভারত' কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও, 'মাই ভারত' স্বেচ্ছাসেবক, এনসিসি ক্যাডেট এবং এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যাপক সংখ্যায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন টেপানিয়া, কাকড়াবন এবং মাতাবাড়ি ব্লকের
পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, জেলা কল্যাণ আধিকারিক, টিবি আধিকারিক, হাসপাতালের চিকিৎসক ও বিডিওগণ।
উদ্বোধনী ভাষণে শ্রী মজুমদার বলেন, যক্ষ্মা রোগীদের প্রতি কোনো ধরনের সামাজিক কুসংস্কার বা বৈষম্যমূলক আচরণ রাখা যাবে না; বরং এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে
রোগীকে সমাজের মূলধারায় রেখে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে যক্ষ্মামুক্ত ভারত গড়ার ভিত্তি হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্যকে তামাকমুক্ত
করতে তিনি উপস্থিত যুব স্বেচ্ছাসেবক ও এনসিসি ক্যাডেটদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব
তুলে ধরে গোমতী জিলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা স্থায়ী কমিটির সভাপতি হরেকৃষ্ণ গোস্বামী উল্লেখ করেন,
সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ফলেই তাঁর এক আত্মীয় কীভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য সাফল্যের
স্বীকৃতি হিসেবে জেলার তিনটি এডিসি গ্রাম—তৈনানী , আদিপুর ও শিলঘাটকে 'যক্ষ্মামুক্ত পঞ্চায়েত' সম্মানে ভূষিত ও সংবর্ধিত করা হয়।
এর পাশাপাশি যক্ষ্মাকে জয় করে সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা স্থানীয় 'টিবি চ্যাম্পিয়ন'দেরও বিশেষ সম্মাননা এবং ফুড বাস্কেট প্রদান করা হয়।
পরিশেষে, যক্ষ্মামুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে উপস্থিত সকলের সমবেত শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।