নিজস্ব প্রতিনিধি ,অমরপুর | ৯ অক্টোবর :
হিন্দু বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পুজো একেবারে দোরগোড়ায়। ক্লাবে ক্লাবে বাঁশ বাঁধার শব্দ, আর মূর্তিপাড়ায় চলছে শেষ বেলার ব্যস্ততা।
অমরপুরের রাঙামাটি, বীরবল দাস পাড়া, হাসপাতাল চৌমুহনী সহ সর্বত্র মৃৎশিল্পীদের স্টুডিওতে এবং চোখে মুখে চরম ব্যস্ততা।
কিন্তু মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে শিল্পীদের মুখে চিন্তার ভাঁজ। মূর্তি তৈরিতে ব্যবহৃত খড়, বাঁশ, মাটি, রং, কাপড় সহ সমস্ত ধরনের জিনিসপত্রের দাম গত কয়েক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।
শিল্পীদের লাভের অঙ্ক একেবারে তলানিতে। তবুও বংশ পরম্পরায় শিল্পকে ছাড়তে পারছেন না তাঁরা। রাঙামাটির প্রবীণ মৃৎশিল্পী রতন পাল এবারও নিয়েছেন ২৬ টি দুর্গা প্রতিমা তৈরির বরাত।
তিনি নবম শ্রেনীতে থাকাকালীন সেই ছাত্রজীবন থেকেই মূর্তি গড়ছেন। এরপর শিক্ষকতার চাকরি করেও ছাড়েননি তুলির টান।
কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার পর এখন পুরোদমে স্টুডিওতেই থাকেন। ছেলে সুবীর পাল ও রণবীর পাল এবং পুত্র বধু রাও মূর্তি তৈরিতে একে অপরকে সাহায্য করে।
পরিবারের সদস্য ছারাও প্রতিদিন ৮ জন কারিগর নিয়ে চলছে তাঁর কর্মযজ্ঞ। মৃৎশিল্পী রতন পাল প্রতিবেদককে জানান " মূর্তি তৈরি এখন আর ব্যবসার জন্য করি না,
ভালোবাসার জন্য করি। এই বছর খরচই উঠবে না। কিন্তু চিন্ময়ী মাকে মৃন্ময়ী রূপ দিয়ে যে গড়তেই হবে, আর এটাই আমাদের পরম্পরা।
মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। খড়, বাঁশ, মাটি, রং, মূর্তির সাজসজ্জা, শ্রমিকের হাজিরা সমস্ত কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে আজকাল মূর্তি তৈরি করে তেমন বেশি লাভবান হওয়া যায় না। অমরপুরের মৃৎ শিল্পীদের
দাবি, সরকার যদি সাহায্যের মাধ্যমে তাদের পাশে দাড়ায় তবেই আগামীদিনে টিকবে এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।