নিজস্ব প্রতিনিধি, বক্সনগর :
দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির পুরনো কর্মী ও নেতারা। তাঁদের বার্তা— “আমরা আছি, হারিয়ে যাইনি।”
বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বাতাদোলা এলাকায় এক বনভোজনকে কেন্দ্র করে বিজেপির একসময়ের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের এক মিলনক্ষেত্র অনুষ্ঠিত হয়।
আর সেই মিলনক্ষেত্র থেকেই উঠে আসে দলের অভ্যন্তরে জমে থাকা ক্ষোভ, অভিমান ও বঞ্চনার কথা।
উপস্থিত কর্মীদের বক্তব্য, ২০১৮ সালের আগে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের সময় নানা প্রতিকূলতা ও চাপ উপেক্ষা করে বিজেপিকে শক্তিশালী করতে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছিলেন।
অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দিন-রাত এক করে দলের সংগঠনকে মজবুত করেছিলেন।
তাঁদের দাবি, বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁদের ঘাম, শ্রম এবং ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, ২০১৮ সালের পর এবং বিশেষ করে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সিপিআই(এম) থেকে আসা অনেক নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
অথচ দলের দুর্দিনে যারা মাঠে-ময়দানে লড়াই করেছিলেন,সেই পুরনো কর্মীদের অনেকেই আজ উপেক্ষিত ও মূল্যায়নহীন অবস্থায় রয়েছেন।
এই ক্ষোভ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন বহু কর্মী।তবে বনভোজন সেই পুরনো কর্মীদের আবারও এক মঞ্চে নিয়ে আসে।
প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী মন্টু সরকারের লেইকে মাছ ধরা এবং বনভোজনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত এই মিলনমেলায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ‘আদি বিজেপি’ কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের চারজন প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি— জয়ন্ত সরকার, জয়দল হোসেন,সঞ্জয় সরকার এবং সদ্য প্রাক্তন হওয়া মণ্ডল সভাপতি সুভাষ সাহা।তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
সূত্রের খবর,বনভোজনের ফাঁকে সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, পুরনো কর্মীদের ভূমিকা এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা দলের স্বার্থে আবারও সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বক্সনগরে ‘আদি বিজেপি’ কর্মীদের এই একত্রিত হওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
একইসঙ্গে এদিনের বনভোজন যেন দলের দুর্দিনের সৈনিকদের কাছে নতুন করে আত্মপ্রকাশের মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন পর তাঁদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও ঐক্যের ছবি দেখা গেল, তা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।