নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর | ১৪ অক্টোবর :
মোদি-শাহের কাঠপুতুল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আরএসএস-বিজেপিকে ক্ষমতার মসনদে টিকিয়ে রাখতে চাইছে।
তবে এবার আর রক্ষা নাই। দেশ জেগে গেছে। সংবিধান ও অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমেছে জনগণ।
দেশে অঘোষিত জরুরী অবস্থা জারি করে দমনপীড়ন চালালেও দেশ রক্ষায় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং আরএসএস-বিজেপিকে রুখতে ঐক্যবদ্ধ হোন।
উদয়পুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের দৃপ্ত মিছিল শেষে সভায় এই আহ্বান জানান ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুন দেব।
হাতে হাতে দেশের সংবিধানের ডেমু কপি, গলায় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র রক্ষার দাবির প্ল্যাকার্ড ও সাদা-সবুজ পতাকা নিয়ে ছাত্র-যুবদের
শ্লোগান সোচ্চার মিছিল গোটা উদয়পুর শহরে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মুখে মুখে শ্লোগান দফা এক-দাবি এক- জ্ঞানেশ কুমার মাস্ট রিজাইন,
জ্ঞানেশ হঠাও-দেশ বাঁচাও। এদিন উৎসব মরশুমে শহরে প্রচুর সাধারন মানুষের সমাগম, তারমধ্যে তরুন প্রজন্মের উত্তাল ঢেউ সাধারন মানুষকে নাড়া যেমন দেয়,
তেমনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সে মানুষদের লড়াইয়ের প্রতি কুর্নিশ জানানোর ছবিও ছিল স্পষ্ট। মিছিলে উদয়পুর মহকুমার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব-সহ ছিলেন
ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুন দেব, এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রীতম শীল, যুব নেতৃত্ব শুভ চক্রবর্ত্তী, রাজেন্দ্র জমাতিয়া,
ফারুক আহমেদ, সোমরাজ চৌধুরী, নকুল মজুমদার, ছাত্রনেতা সাবির আহমেদ ভু্ঁইয়া, তন্ময় নন্দী, অমৃত মলসম প্রমুখ।
সোমবার ডিওয়াইএফআই-এসএফআই-টিওয়াইএফ-টিএসইউ উদয়পুর বিভাগীয় কমিটির আহ্বানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং দিল্লীর লড়াইয়ের
প্রতি সংহতি জানিয়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উদয়পুর জামতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের থানা কর্নার, সেন্ট্রাল রোড, নিউটাউন রোড
ঘুরে পুনরায় জামতলাতে এসে শেষ হয়। জামতলাতে অনুষ্ঠিত হয় সভা। এখানে ছাত্র-যুব নেতৃত্ব নকুল মজুমদার, জগৎ জমাতিয়া, তন্ময় নন্দী ও অমৃত মলসম ছিলেন সভাপতি মন্ডলীতে।
বক্তব্য রাখেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুন দেব, টিওয়াইএফ উদয়পুর বিভাগীয় সম্পাদক রাজেন্দ্র জমাতিয়া, এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রীতম শীল।
সভা শেষে দেশে ভোট চোর হিসাবে পরিচিত জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হয়।
নেতৃত্বরা আলোচনায় বলেন, গোটা দেশে অদ্ভুত অরাজকতা নামিয়ে এনেছে বিজেপি। গণতন্ত্র, সংবিধান রক্ষা,
জনগণের অধিকার রক্ষার পক্ষে যারা কথা বলছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার, প্রশাসন। আর যারা চুরি করেছে তাদের বাঁচাতে সরকার, প্রশাসন মাঠে।
দেশে অঘোষিত জরুরী অবস্থা জারি করেছে মোদি-শাহ। তবে এবার যতই দমনপীড়ন চলুক, জেদি নতুন প্রজন্ম আরএসএস-বিজেপির ষড়যন্ত্রের জাল ছিহ্ন করে শেষতক লড়াইকে
এগিয়ে নেওয়ার শপথ নিয়েছে। বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। দু'ধরনের দেশের জন্ম দিচ্ছে একাংশ ভোটার, অন্যঅংশ ভোটার নয়-
এরকম ভাগের রাজনীতি যারা করছে তাদের ক্ষমতার মসনদে থাকার অধিকার নেই। ভোট চুরি, অবৈধ এসআইআর করার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে
পদত্যাগ করতে হবে। আর জ্ঞানেশকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে তথাকথিত রাজাকে ক্ষমতার মসনদকে টেনে নামানোর শপথ নিতে আহ্বান রাখেন বক্তারা।