সুব্রত দে প্রতিনিধি, আগরতলা | ১৪ অক্টোবর :
রাজন্য আমল থেকে আগরতলা দুর্গাবাড়িতে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা। প্রায় ১৫০ বছর ধরে আগরতলা চলছে এই পূজো ।
এর আগে চট্টগ্রামের চাকলা রোসনা বাদে মহারাজা কৃষ্ণ কিশোর মানিক্যের সময় শুরু হয়েছিল পুজো । পুরোহিত ছিলেন উমাকান্ত ভট্টাচার্য ।
তারপর থেকে রাজবাড়ী ঠিকানা বদলে অমরপুর ,উদয়পুর , পুরনো আগরতলায় হয়েছে। কিন্তু পুরোহিত বদলায়নি ।
বংশানুক্রমে সেই পরিবারের হাতেই রয়েছে পূজোর দায়িত্ব । বর্তমানে ষষ্ঠ পুরুষ পুজোর কাজ পরিচালনা করছেন।
এখনও বর্তমান মহারাজার নামেই সংকল্প হয় পুজো । ভারতভুক্তির শর্ত অনুযায়ী মন্দির এবং পুজো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে সরকার।
দেবী দুর্গা দশপূজা হলেও , একমাত্র আগরতলা দুর্গা বাড়িতে দেবীকে দেখা যায় দুহাতে। কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় ।
সন্ধ্যা আরতির সময় মহারানী সুলক্ষণা দশভূজা রূপ দেখে ভয় পেয়েছিলেন। তারপর দেবীর স্বপ্ন দেশে সামনে দুই হাত এবং পেছনে আটটি হাত লুকায়িত রাখা হয়।
সামিশান্ন ব্যাঞ্জনাদি ভোগের সপ্তম- নবমী পূজো হয় । তিন দিন হয় পাঁঠা বলি। নবমীতে পাঁঠা ও মহিষ বলি হয় ।
এবারও আগরতলার ঐতিহ্যবাহী দূর্গাবাড়ি মন্দিরটি প্রতিবছরের মতো দুর্গাপূজা উপলক্ষে চমৎকারভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন বাহারি ফুল দিয়ে।
অলোক নন্দিত উজ্জ্বল অলোকসজ্জা, ঐতিহ্যগত মাঙ্গলিক শিল্প এবং সদৃশ্য সাজসজ্জার মাধ্যমে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ফুলের বিভিন্ন মালার কারণে দুর্গা মন্দির তার রূপ , অপরূপে ফিরেছে আগামীর উৎসবকে কেন্দ্র করে।