নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনামুড়া , 23 অক্টোবর :
প্রশাসন ও আইনকে তোয়াক্কা না করে সোনামুড়ায় দেদারছে চলছে জলাশয় ভরাটের কাজ। একদল জমি মাফিয়ার দাদাগিরিতে আজ বিলুপ্তির পথে একটি বিশালাকার
জলাশয়, যা একসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের পানীয় ও দৈনন্দিন জলের প্রধান উৎস ছিল। শুধু জলাশয় ভরাটই নয়, জমি মাফিয়াদের তাণ্ডব থেকে
রেহাই পায়নি স্থানীয় মানুষের গভীর আস্থার কেন্দ্রস্থল একটি কালী মন্দিরও। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে পথটি দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ চলছে,
সেখানেই রয়েছে স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি কালী মন্দির। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সেই মন্দিরটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে
মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জমি মাফিয়া চক্রটি। এই নক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় নগর পঞ্চায়েত—সবাইকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও জমি মাফিয়াদের
এই দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। উল্টে প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় মানুষদের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ক্রমাগত মাটি ফেলে জলাশয়টি সম্পূর্ণ বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে।
যেখানে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো অবস্থাতেই
প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাটের অনুমতি দেওয়া হয় না, সেখানে কীভাবে এই বিশাল জলাশয়টি দিনের পর দিন মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে—তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পুরো বেআইনি কর্মকাণ্ডটি ঘটছে সোনামুড়া অফিস টিলাস্থিত এসডিএম (SDM) অফিসের কোয়ার্টার থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে।
মহকুমা প্রশাসনের একদম নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে এভাবে জমি মাফিয়ারা কীভাবে এত বড় দুঃসাহস দেখায়, তা ভেবে বাকরুদ্ধ সচেতন মহল।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি সরকার ও মহকুমা প্রশাসন যেখানে জলাশয় ভরাটে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে,
সেখানে এই জমি মাফিয়ারা কার ছত্রছায়ায় এই কাজ চালাচ্ছে? স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও আস্থায় আঘাত হেনে রাতারাতি মন্দির ভেঙে ফেলার পরও
কেন প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে? এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই বেআইনি জলাশয় ভরাট বন্ধ করতে হবে,
জড়িত জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।