চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি :
উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ব্লকের অন্তর্গত সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অপর্ণা নাথ ও উপপ্রধান দিলীপ গোস্বামী তাঁদের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন।
সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা জানান, তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অপর্ণা নাথ বর্তমানে সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা, পঞ্চায়েত প্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা হিসেবেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং এলাকার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি স্থানীয়দের কাছে সুপরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ, বিদ্যুৎ পরিষেবার সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি এবং চারটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সচল করার মতো একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সহজ-সরল আচরণের কারণে তিনি এলাকায় একটি গ্রহণযোগ্য জনমুখী ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন বলেও অনেকের মত।
তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর এবং উপপ্রধান দিলীপ গোস্বামীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন অপর্ণা নাথ।
তাঁর অভিযোগ, একাংশ দলীয় কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালিয়ে তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
এ প্রসঙ্গে অপর্ণা নাথ বলেন, “আমি একটি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছি। আমার বা উপপ্রধানের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ,
ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারেন। সত্য উদঘাটনে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”
উপপ্রধান দিলীপ গোস্বামীও একই সুরে বলেন, উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্ত করতেই কিছু ব্যক্তি ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।
জনগণের স্বার্থে তাঁরা সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অপর্ণা নাথ আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি সকলকে এই ধরনের নেতিবাচক প্রচার থেকে বিরত থেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পঞ্চায়েত স্তরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নতুন কোনও ঘটনা নয়।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত তথ্য সামনে আনতে প্রশাসনিক তদন্তই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।