নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা :
যেকোনো রাজ্য সরকারের চোখ এবং কান হিসেবে কাজ করে গোয়েন্দা দপ্তর। সরকারের কাছে খবরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং প্রধান উৎস হওয়ার কথা এই বিভাগের।
কিন্তু ত্রিপুরার সাম্প্রতিক পাহাড় নির্বাচনে সেই বিশ্বস্ততার জায়গাতেই বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘুঁটি সাজালেও, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল শাসকদল বিজেপির জন্য চরম হতাশা বয়ে এনেছে।
সূত্রের দাবি, পাহাড়ের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ 'তিপ্রা মথা'-র অভ্যন্তরীণ রণকৌশল এবং গোপন ভোট ব্যাংকের সমীকরণ বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে গোয়েন্দা দপ্তর।
পাহাড়ের মানুষ ঠিক কী চাইছে বা ভেতরে ভেতরে কী ধরনের জনমত তৈরি হচ্ছে, তার সঠিক চিত্র সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছায়নি। অভিযোগ উঠেছে, গোয়েন্দা দপ্তরের একাংশ কেবল সরকারকে 'খুশি' রাখার জন্যই মনগড়া তথ্য ওপর মহলে পাঠিয়েছিল।
বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে কাল্পনিক ইতিবাচক খবরের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়েছিল।
যার প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায় ভোটের ফলাফলের দিন।নির্বাচনী ফলাফলে শাসকদলের যে বড় ধরনের 'রক্তক্ষরণ' পরিলক্ষিত হয়েছে, তার দায় এখন গোয়েন্দা দপ্তরের ওপরই এসে পড়ছে।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা প্রত্যাশা কেন আগে থেকে আঁচ করা গেল না, তা নিয়ে সরকারের অন্দরেই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
"সরকারের কান পর্যন্ত সঠিক খবর না পৌঁছানোই এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ," বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এই ব্যর্থতার পর গোয়েন্দা দপ্তরের কর্মপদ্ধতি এবং কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে সরকারের উচ্চমহল এখন কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।