নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর :
বৃহস্পতিবার ছিল রথযাত্রা উৎসব। উদয়পুর জগন্নাথ বাড়ি থেকে মহাদেব বাড়ির উদ্দেশ্যে জগন্নাথের রথ ভক্তরা দড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল শহরের পথ ধরে।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর হাত ধরে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু ভক্তের ভিড়ে লুকিয়ে ছিল চোরের দল । যখন ভক্তরা তাদের প্রভুকে নিয়ে যাচ্ছে উদয়পুর শহরের রাজপথ ধরে তখন একের পর এক ভক্তদের গলা থেকে স্বর্ণের হার ছিনতাই হচ্ছে। এইজন্য স্বর্ণ অক্ষরে লেখা হলো জগন্নাথের রথযাত্রা।
ভক্তিকে দূরে সরিয়ে এবার নিজেদের গলার হার খুঁজতে ব্যস্ত হন ভক্তবৃন্দ। কিন্তু উদয়পুরে রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত পুলিশ মাসের পর মাস যেভাবে সরকারি বেতন গুনে নিচ্ছে। তাদের ১০ শতাংশ কাজের গুণ শহরের মানুষ কখনো দেখতে পাইনি। রাধা কিশোরপুর থানা অথবা উদয়পুর মহকুমা পুলিশের ঢিলেঢালা মনোভাব প্রতিটা সময় প্রতিদিন থেকে যাচ্ছে উদয়পুর শহরে।
যার সুফল বেকারত্বের এই দুর্দিন সময়ে চুরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রশ্ন উঠছে কোথায় উদয়পুর শহরের পুলিশের গোয়েন্দারা।
সরকারি বেতন যদি কখনো একটু দেরি হয়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অথবা তাদের রেশন মানি যদি কখনো আটকে পড়ে তাহলে সরকারের বদনাম করতে ছাড়ে না বিভিন্ন মহলে।
আর যখন চুরির কাণ্ড ঘটে যায় তারপর তাদের এমন মনোভাব সৃষ্টি হয় যেমন রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত পুলিশ চোর ধরতে আমেরিকার FBI এর মতো তদন্ত শুরু করবে। এমনটা তাদের ভাবসাবে বুঝা যায়। আজকেও ৫ থেকে ৬ জনের গলার হার ছিনতাই হয় শহরের বুক থেকে।
যথারীতি উদয়পুর রাধা কিশোরপুর থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু কতটুকু উদ্ধার করতে পারবে চুরি যাওয়া স্বর্ণের হার। অন্যান্য চোরের মামলার মত লাল ফিতার বাঁধনে বাঁধবে রাধা কিশোরপুর থানার তদন্তের ফাইল।
ব্যস্ত হবে আবার নেতা মন্ত্রীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। যে শহরে নাগরিকদের নেই সুরক্ষা সেখানে স্বর্ণের হার কতটুকু উদ্ধার করতে পারবে তথাকথিত হীরা যুগের পুলিশ। সেটাই এখন লক্ষ ছাড়িয়ে কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরে এই ঘটনা আমাদের চ্যানেলে খবর সম্প্রচার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে রাধা কিশোরপুর থানার পুলিশ। চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আটটি স্বর্ণের হার। জানা যায় , বর্তমানে গোমতী জেলায় স্থায়ী কোন পুলিশ সুপার না থাকার কারণে দায়িত্বে রয়েছেন সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা।
তিনি এই ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় রাধা কিশোরপুর থানায় ছুটে আসেন। একই সাথে ছুটে আসেন উদয়পুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায়। শুরু হয় পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
তার মধ্যেই আমাদের সংবাদ প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা , যারা এই চুরির ঘটনার সাথে রয়েছেন তার মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে একজন পালিয়ে গিয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে আটটি হার উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছে যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে তারা গৌহাটির বাসিন্দা । কিন্তু এইদিন কতজন সিভিল পুলিশ এদিনের রথযাত্রায় নিয়োগ ছিল তা সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি পুলিশ সুপার। একের পর এক চুরির ঘটনা উদয়পুর শহরকে লজ্জিত করে তুলছে।
রাধা কিশোর পুর থানার পুলিশের দুর্বলতা আজ প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে চুরের দল। গোয়েন্দা ব্যর্থতার ডাহা ফেল উদয়পুরে।
২০২৫ সালেও একইভাবে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল উদয়পুরে রথযাত্রার প্রথম দিনে । তার থেকেও পুলিশ এখনো যে শিক্ষা নেয়নি তা আজ আবারও প্রমাণিত হলো।
এখন দেখার বিষয় পুলিশ কতটুকু কাজ করতে পারে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা উদয়পুরবাসী।